অনন্যা সরকার, বীরভূম: মানবিকতার নজির গড়লেন বীরভূমের ইলামবাজারের এক ছোট্ট গ্রামের ১৫০ জন গ্রামবাসী (Villagers)। কোনও পারিশ্রমিক না নিয়ে স্বেচ্ছায় ৫ বিঘা জমিতে ধান রোপন করলেন তাঁরা। কিন্তু কেন? আরেক গ্রামবাসীর অসম্পূর্ণ কাজ সমাপ্ত করার উদ্দেশ্যে। বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে এই গ্রামেরই কৃষক (Farmer) রাসবিহারী পালের। তাঁর ধান রোপনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য গোটা গ্রাম এগিয়ে এল। দুঃসময়ে শোকগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে এভাবেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত গড়লেন গ্রামবাসীরা। এদিকে, রাসবিহারী পালের বজ্রাহত মৃতদেহ হাসাপাতালে ময়না তদন্তের অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে, আগের দিন দুপুরে যে মাঠে ধানের চারা রোপণ করার কাজ করছিলেন ওই কৃষক, সেই মাঠেই ১৫০ গ্রামবাসী নেমে তাঁর কাজ সম্পূর্ণ করলেন।
বজ্রাঘাতে মৃত কৃষকের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করলো গোটা গ্রাম
ইলামবাজার ব্লকের জয়দেব-কেঁদুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের আকম্বা গ্রামে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। শোকে ভেঙে না পড়ে কাদামাটি মেখে হাতের ধানের চারা নিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে মৃত রাসবিহারী পালের ফেলে রাখা পাঁচ বিঘা জমিতে ধান রোপন করলেন গ্রামবাসীরা। অসমাপ্ত কাজ শেষ করে শুধু তাঁরা যে ওই কৃষকের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন এমন নয়, মানবিকতা যে মানুষের পরম ধর্ম তা আবারও প্রমাণ করলেন।
আরও পড়ুন: LIC-র বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করছে কেন্দ্র, আসবে ৩১,০০০ কোটি টাকা
উল্লেখ্য, গত সোমবার বজ্রাঘাতে গুরুতর জখম হন রাসবিহারী পাল (৫৭)। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ইলামবাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। তিনিই ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। ফলে তাঁর এই অকাল প্রয়াণে দিগ্ভ্রান্ত হয়ে পড়ে স্ত্রী, দুই ছেলে ও পুত্রবধূ সহ পুরো পরিবার। সেই সময়ই পাশে এসে দাঁড়ালো গোটা গ্রাম।
আরও পড়ুন: পরিবার পিছু পঞ্চায়েত কর ১২০০ টাকা? ভুয়ো খবর বলে বিজ্ঞপ্তি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
রাসবিহারী পালের প্রায় ৬ বিঘা মতো জমি ছিল, যেখানে তিনি চাষ করতেন। এই জমিটিই তাঁর পরিবারের ভরণপোষণ করে। সোমবার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি মাত্র ১ বিঘা জমিতেই ধান রোপন করতে পেরেছিলেন। বাকি ৫ বিঘায় তখনও হাত পড়েনি। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটিকে হারিয়ে যখন বিহ্বল হয়ে পড়েছেন আপনজনরা, জমিতে কিভাবে চাষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ভুগছেন, তখন পাশে এসে দাঁড়ালেন গ্রামের মানুষরাই। হাতে হাতে ১৫০ গ্রামবাসী মিলে কাজ করে তার জমিতে ধান রোপণের কাজ সম্পূর্ণ করলেন। মঙ্গলবার রাসবিহারী পালের ময়নাতদন্তের পর তার মরদেহ গ্রামে ফিরিয়ে আনলে শেষ দেখা দেখতে ভিড় জমান গ্রামবাসীরা। রাসবিহারী পাল আর আকম্বায় ফিরবেন না, তবু এবছরও তাঁর সাধের জমি সবুজ ফসলে ছেয়ে যাবে।










