বৃষ্টি বা কুয়াশা নয়, ট্রেন লেট করার মূল ৬টি কারণ জানেন?

Published:

Indian Railways Train Delay

অনন্যা সরকার, কলকাতা: শীতকাল পড়লে বা ভারী বৃষ্টিপাত হলে, ট্রেন (Indian Railways) প্রায়শই দেরিতে চলে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টির কারণে গুজরাট এবং মুম্বাই থেকে দিল্লিগামী ট্রেন ১৭ ঘণ্টা দেরি করায় (Train Delays) বহু যাত্রীকে সমস্যায় পড়তে হয়। শীতকালে ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণেও অনেকসময় ট্রেন দেরিতে চলে। তবে জানিয়ে রাখি, কুয়াশা বা বৃষ্টি কিন্তু ট্রেন লেট করার একমাত্র কারণ নয়। রেলওয়ে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, আইআরআইটিএম (IRITM)-এর একটি রিপোর্ট বলছে, ট্রেন দেরিতে চলার ৩৩টিরও বেশি কারণ রয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই থাকে রেলের নিয়ন্ত্রণে। এই কারণগুলোর মধ্যে কয়েকটি একেবারেই আবহাওয়ার সাথে সম্পর্কিত নয় এবং শুনলে অবাক হবেন অর্ধেকেরও বেশি সময় এগুলিই ট্রেন লেট করার কারণ হয়। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, কোন কারণে ট্রেন সবচেয়ে বেশি লেট হয়। 

ট্রেন দেরিতে চলার কারণ সন্ধানে প্রকাশিত রিপোর্ট

ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ইনস্টিটিউট অফ ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজমেন্ট (IRITM) কিছু বছর আগে একটি সিএজি (CAG) অডিট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ট্রেন লেট করার মূল কারণগুলি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই রিপোর্টে খারাপ আবহাওয়া সহ ট্রেন বিলম্বের ৩৩টি সাধারণ কারণ উল্লেখ করা হয়। আবহাওয়া খারাপ থাকলে অনেকসময় ট্রেন লেট হয়, কিন্তু রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে যে, ৩৩-এর মধ্যে ২৭টি কারণই রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং এর মধ্যে মোট ৬টি কারণের জন্যই ৬৫ থেকে ৬৬ শতাংশ ট্রেন লেট হয়ে। সুতরাং বলাই যায় বেশিরভাগ ট্রেন লেটের জন্য এই ৬টি কারণই দায়ী। এগুলি হল – 

আরও পড়ুন: ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্ব রেলেরই, গণধর্ষিতা মহিলাকে ৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

১. ট্র্যাক পরিবর্তন – ট্রেনকে নির্ধারিত ট্র্যাকে বা নির্ধারিত সময়ে চালানো না গেলে বা অন্য ট্রেনকে জায়গা করে দেওয়ার কারণে ট্রেনটিকে থামালে বা অন্য ট্র্যাকে ঘুরিয়ে দিলে ট্রেন লেট হয়ে। এর ফলে বহু ট্রেন দেরিতে গন্তব্যে পৌঁছায়।

২. ট্র্যাফিক – কোনো রুটে অতিরিক্ত ট্রেন চলাচল বা পরিচালনগত চাপের কারণে ট্রেনকে দীর্ঘক্ষণ সিগন্যালে অপেক্ষা করতে হয়।

৩. পরিকল্পিত রেল ব্লক – ট্র্যাক মেরামত করা বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কিছু সময়ের জন্য রেললাইন বন্ধ রাখা হয়, যা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। এই সময় যে ট্রেনগুলো চলাচল করে, সেগুলি বাতিল বা বিলম্বিত হতে পারে।

৪. ইঞ্জিনিয়ারিং – রেলওয়ে ট্র্যাক, রেল ব্রিজ, সিগন্যাল বা অন্যান্য রেল পরিকাঠামোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য ট্রেনকে কিছু সময়ের জন্য গতি কমাতে বা থামতে হয়।

আরও পড়ুন: RAC যাত্রীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত রেলের, মিলবে কনফার্ম টিকিটের মতো সুবিধা

৫. জোনের পার্থক্য – যদি একটি ট্রেন এক রেলওয়ে জোন থেকে অন্য জোনে যাওয়ার সময় প্রথম জোনে দেরিতে পৌঁছায়, তবে পরবর্তী জোনেও ট্রেনটিকে একই সময়ের ব্যবধানে চলাচল করতে হয়। এর ফলে বিলম্ব আরও দীর্ঘায়িত হয়। 

৬. রিসিডিউলিং- ট্রাফিক, পরিচালন সংক্রান্ত কারণ, রক্ষণাবেক্ষণ সহ অন্যান্য পরিস্থিতিতে রেল কর্তৃপক্ষ একটি ট্রেনের নির্ধারিত ছাড়ার সময় পরিবর্তন করতে পারে, যার ফলে সম্পূর্ণ যাত্রাটিই বিলম্বিত হয়ে যায়।

এই মূল ৬টি কারণ ছাড়াও, খারাপ আবহাওয়া, মাঝপথে চেইন টানা, অপরাধমূলক কার্যকলাপ, দুর্ঘটনা, রেল অবরোধ, কোচ ও ওয়াগনের সমস্যা, ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি, ওভারহেড পাওয়ার লাইন ও গ্রিড বিকল হয়ে যাওয়া, সিগন্যালের সমস্যা, ট্রেনে চাপা পড়া, লেভেল ক্রসিংয়ের সমস্যা সহ একাধিক কারণে প্রায়শই ট্রেন লেট হয়।