ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্ব রেলেরই, গণধর্ষিতা মহিলাকে ৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

Published:

Indian Railways

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ২০১২ সালে ট্রেনে এক মহিলা গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। সেই মামলায় এবার রেল কর্তৃপক্ষকে (Indian Railways) ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট দাবি, এই অপরাধটি বহিরাগতদের দ্বারা সংঘটিত হলেও বৈধ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সম্পূর্ণ রেলের। এমনকি ওই ব্যক্তি টিকিট কেটেই ট্রেনে উঠেছিলেন। তাই তাঁর নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে রেল কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই সরে আসতে পারে না। এমনকি এই রায়কে রেল চ্যালেঞ্জ করলেও শেষ পর্যন্ত ওই নির্যাতিতা মহিলার পক্ষেই সওয়াল করে আদালত।

গণধর্ষিতা মহিলাকে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ

জানিয়ে রাখি, এই ঘটনাটি ঘটেছে ২০১২ সালের ২৭ অক্টোবর। বিহারের এক রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী এক ট্রেনে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ওই মহিলা। পরে নির্যাতিতার বাবা ২০১৩ সালের ৯ মার্চ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে কমিশন রেল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় রেল কর্তৃপক্ষ। তাদের যুক্তি ছিল, শুধুমাত্র রেলওয়ে ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষমতা রয়েছে। মানবাধিকার কমিশন এ বিষয়ে রায় দিতে পারে না।

এমনকি রেল কর্তৃপক্ষ আরও যুক্তি দিয়েছিল, এই গণধর্ষণের ঘটনা কোনও রেল কর্মীর দ্বারা নয়, বরং বহিরাগতদের দ্বারাই হয়েছিল। আর যেহেতু ট্রেনটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল, তাই নিরাপত্তার দায়িত্ব ছিল রাজ্য সরকারের একটি ইউনিট এবং জিআরপির উপর। রেল আরও জানায়, এটি ১২৩ ধারা অনুযায়ী অপ্রত্যাশিত ঘটনার আওতায় পড়ে না, এবং সেই কারণে ১২৪ক ধারার আওতায় কোনওভাবেই ক্ষতিপূরণ করা যাবে না।

আরও পড়ুন: নেতাজিকে অপমানের জের, রবিবার শিয়ালদায় বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের ডাক

তবে রেলের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিচারপতি অমিত বানসাল স্পষ্ট জানান, এটি একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার মধ্যেই পড়বে, এবং এটি সহিংস আক্রমণ। এই আইন শুধুমাত্র ট্রেনের ভেতরে নয়, বরং রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন অঞ্চলেও যে কোনও সহিংস হামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, ভুক্তভোগী একজন বৈধ যাত্রী ছিলেন এবং তাঁর কাছে বৈধ টিকিটও ছিল। আদালতের এই রায়ের পরেই ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয় রেল কর্তৃপক্ষ।