১ ঘণ্টা উড়ানে ব্যয় ৭৫ লাখ, ‘ফ্যালকন ২০০০’ বিমানে বিরাট দুর্নীতি তৃণমূলের

Published:

TMC corruption

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতি (TMC Corruption) হয়নি এমন কোনও জায়গা নেই বললেই চলে। চাকরি চুরি থেকে শুরু করে রেশন চুরি, ত্রাণ চুরি, কয়লা চুরি, বালি চুরি তো রয়েছেই। তাছাড়া সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, মাফিয়াবাজ, ইত্যাদির উদাহরণ ভুরি ভুরি। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের তৎকালীন যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফ্লাইট ভাড়া নিয়ে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর তথ্য। কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে শুধুমাত্র চাটার্ড ফ্লাইটে। এবার ফ্ল্যালকন ২০০০ বিমানের ভাড়া নিয়ে আরও এক দুর্নীতির ঘটনা সামনে এল।

ফ্লাইট ভাড়া নিয়ে ভয়ঙ্কর দুর্নীতি তৃণমূল কংগ্রেসের

সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট বলছে, ফ্যালকন ২০০০ বিমানের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করত তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি ১ ঘণ্টা উড়ানের জন্যই ব্যয় করা হত প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা উড়ানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে প্রায় ৯.১ কোটি টাকা দিত তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির নেই কোনও হিসাব। কেন বেশি টাকা দেওয়া হত, তারও কোনও উত্তর নেই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীদের কাছে। এমনকি এই টাকা কোথায় যেত, তারও হিসাব নেই। এবার সেই ঘটনার তদন্তে নামছে রাজ্য সরকার।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে নিজেদের দলীয় অর্থের তহবিল দিয়েই তারা চাটার্ড ফ্লাইট থেকে শুরু করে একাধিক হেলিকপ্টার কিনেছিল। উল্টে আবার সেই বিমান বা হেলিকপ্টারকেই ভাড়া নিত মমতার টিএমসি। তবে এর কোনও হিসাব নেই দলের কাছে। আর সেই দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসতেই ফের রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় যেত, সেই উত্তরই খুঁজছে এবার রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন: ফুলিয়ার বিডিও অফিসের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার রহস্যজনক সিন্দুক, কী কী মিলল?

প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত স্তর থেকে পৌরসভা, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এমনকি তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট বা তহবিলের সন্দেহজনক লেনদেনগুলিরও কোনও হিসাব নেই। ইতিমধ্যেই এই অভিযোগ তুলে কালীঘাট তৃণমূলের বিরোধিতা করেছেন রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সূত্র ধরেই দলের অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হয়েছে। যদিও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শুধুমাত্র বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রেই কালীঘাট তৃণমূল তাদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে, তাও দিতে হবে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব।