জানেন পিতৃপক্ষে কাককে কেন খাবার দেওয়া হয়?

Published:

Pitru Paksha 2026

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শাস্ত্র বা পুরাণ মতে বিশ্বাস করা হয়, পিতৃপক্ষের সময় পিতৃপুরুষ, পূর্বপুরুষ, ঋষি, পিতামাতা তুষ্ট হলে, তাঁদের আশীর্বাদে জীবদ্দশায় দীর্ঘায়ু, সন্তান, ধনসম্পত্তি, জ্ঞান এবং শান্তি লাভ হয়। চলতি বছর ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার থেকে শুরু হয়েছে পিতৃপক্ষ (Pitru Paksha 2026)। যা চলবে আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত। এই সময় কাককে খাবার খাওয়ানোর (Pitru Paksha crow ritual) বিশেষ গুরুত্ব আছে। কিন্তু জানেন কেন এই রীতি? তাহলে চলুন আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নিন বিস্তারিত।

পিতৃপক্ষে কেন কাকদের খাওয়ানো হয়?

হিন্দুধর্মে পিতৃপক্ষের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। শাস্ত্রমতে এই সময় নাকি প্রয়াত পিতৃপুরুষরা মর্ত্যলোকে তাঁদের ফেলে আসা পরিবারের উত্তর পুরুষদের হাত থেকে জল পানের আশায় ফিরে আসেন। সনাতনী মতে পিতৃপক্ষের ১৫ দিন ধরে নাকি কাকেদের খাবার ও জল দেওয়ার রীতি আছে। কিন্তু কেন দেওয়া হয় সেই নিয়ে অনেকেই জানেন না। আসলে গরুড় পুরাণে বলা আছে কাক হল যমরাজের দূত। মনে করা হয়, মর্ত্যলোক থেকে কাকেরাই যমলোকে বার্তা বহন করে নিয়ে যায়। সেই কারণে পিতৃপক্ষে কাককে খাবার খাওয়ালে তারা আপনার কথা যমলোকে জানাবে। এর ফলে পিতৃপুরুষরা প্রসন্ন হন ও যমরাজের আশীর্বাদও লাভ করা সম্ভব হয়।

কাককে যমের দূত হিসেবে মানা হয়

এছাড়াও হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে, পিতৃপক্ষে পুর্বপুরুষরা যে শুধু কাক রূপেই ফিরে আসে তা কিন্তু নয়, যে কোনও অন্য রূপ দিয়ে আপনার ঘরে আসতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে এই সব প্রাণীর জন্য বাড়িতে সব সময় অতিরিক্ত খাবার ও জলের ব্যবস্থা রাখুন। যদি কোনো প্রাণী আপনার দেওয়া খাবারের অল্প অংশও দেয়, তবে তা পূর্বপুরুষদের কাছে বেশ সন্তুষ্টির হবে। কারণ পুরাণগুলিতে বলা আছে যে, যম একবার কাককে এই বর দিয়েছিলেন যে মর্ত্যলোকের নিবেদিত খাবার যদি লক খায় তাহলে পূর্বপুরুষদের আত্মা শান্তি পাবে। শুধু তাই নয়, ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় গয়ায় পিণ্ডদান করলে নাকি পিতৃপুরুষেরা মোক্ষ লাভ করেন।

আরও পড়ুন: ১৫ বছর ধরে রাখি পরানো ‘দাদা’র সঙ্গে প্রেম তরুণীর! পালিয়ে বিয়ে করতেই মেয়ের শ্রাদ্ধ করলেন বাবা

প্রচলিত বিশ্বাস, গরুড় পুরাণে নাকি বলা আছে, গয়াসুর নামে এক অসুর কঠোর তপস্যা করেছিলেন। তখন তাঁর তপস্যায় দেবতারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁদের প্রার্থনায় বিষ্ণু গদার আঘাতে গয়াসুরকে বধ করেন। সেই গয়াসুরের নাম থেকেই গয়া তীর্থের নাম হয়েছে বলে ধর্মীয় বিশ্বাস। এখানে গদাধর রূপে বিষ্ণু প্রধান দেবতা হিসেবে পূজিত হন। তাই এইসময় যদি গয়ায় পিণ্ডদান করা হয় তাহলে পিতৃপুরুষেরা পরম মুক্তি লাভ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়।

google button