প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভালোবাসার জোরে বদলে গেল সম্পর্কের সমীকরণ, ১৫ বছর ধরে রাখি পরানো ‘দাদা’কে বিয়ে করে পরিবারকে চমকে দিল ২০ বছরের এক তরুণী। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) প্রয়াগরাজে। এদিকে মেয়ের এই সিদ্ধান্তে কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার। শেষে মেয়ের এই কঠিন সিদ্ধান্তের (Uttar Pradesh viral marriage) প্রতিবাদে তাঁর বাবা জীবন্ত মেয়েকে মৃত ঘোষণা করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করলেন।
দাদাকেই বিয়ে করলেন তরুণী!
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা ২০ বছর বয়সি ওই তরুণীর নাম নন্দিনী পাণ্ডে। কিছুদিন আগেই ওই একই এলাকার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সি শাশ্বত গুপ্তকে পালিয়ে বিয়ে করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুই পরিবারের মধ্যে ভালোই সম্পর্ক ছিল। প্রায় ১৫ বছর ধরে শাশ্বতকে রাখি পড়াতেন নন্দিনী। তাঁকে দাদার মতোই ভালোবাসতেন। কিন্তু কখনো কেউ আঁচ করতে পারেনি যে দু’জনের ভালোবাসার সম্পর্ক আদতে ভাই বোনের ছিল না। পরিবারের দাবি, গত ২০ সেপ্টেম্বর যখন দুজনেই বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিল তখনই প্রথম বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
জীবন্ত মেয়ের শ্রাদ্ধ করলেন বাবা
নন্দিনী এবং শাশ্বতর বিয়ের খবর জানাজানি হতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিল মেয়ের পরিবার। এদিকে নন্দিনীর এমন সমাজবিরোধী সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি বাবা, ক্ষোভের বশে তিনি মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন এমনকি রীতি মেনে কন্যার ছবি সামনে রেখে শেষকৃত্যও সম্পন্ন করে তাঁর পরিবার। নন্দিনীর মায়ের দাবি, মেয়েকে ফুসলিয়ে বিয়ে করেছে শাশ্বত। যদিও নন্দিনীর দাবি সম্পূর্ণ আলাদা। একটি ভিডিয়োয় তিনি জানান, শাশ্বত ও তিনি একে অপরের প্রেমে পড়েছিলেন এবং পারস্পরিক সম্মতিতে বিয়ে করেছেন। এছাড়াও তিনি দাবি করেছেন যে সে স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে ছিলেন।
আরও পড়ুন: হাইকোর্টে বড় স্বস্তি মহুয়া মৈত্রের, জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ল রক্ষাকবচের মেয়াদ
পরিবারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তরুণী
বিয়ে নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি নন্দিনী তাঁর বাবার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বাবা নন্দিনীকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে নির্যাতন করতেন। অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও যথাযথ চিকিৎসা করানো হয়নি তাঁর। কিন্তু বিয়ের পর থেকে তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর দেখাশোনা করছেন এবং চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। এদিকে এই ঘটনায় তরুণীর পরিবার অভিযোগ করেছিল যে বাড়ি ছাড়ার সময় নাকি নন্দিনী ২ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন নন্দিনী। তাঁর কথায়, পরিবারের কাছে এত টাকা ছিলই না।










