সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাত কাটলেই দ্বিতীয় দফার নির্বাচন বাংলায়। তবে তার আগেই কারচুপির কৌশলের অভিযোগে উত্তপ্ত ভবানীপুর (Bhabanipur)। হেভিওয়েট এই কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) এক দাবি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, খাস কলকাতার ভবানীপুরে ভোট লুট ও ছাপ্পা মারতে নাকি সিলিকন ফিঙ্গার নকল আঙুল ব্যবহার করা হতে পারে। আর এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কোন্দল তুঙ্গে।
নকল আঙুলের কারবার হতে পারে ভবানীপুরে
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ভবানীপুর এলাকায় ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর নাকি বিপুল পরিমাণ সিলিকন দিয়ে নকল আঙুলের অর্ডার দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, ভোটারদের হয়ে অন্য কেউ যাতে ভোট দিয়ে আসতে পারে সেই লক্ষ্যেই এই আঙুলের কারবার। এমনকি ভোটের দিন আঙুলে যে নীল কালি লাগানো হয়, তা আসল আঙুলে না লেগে ওই সিলিকনের স্তরে লাগবে। যার ফলে পরে তা খুলে ফেললে আবার অন্য নামে ভোট দেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে মৃত বা প্রবাসী ভোটারদের নামে ভোট দেওয়ার জন্যই এই নীল নকশা তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করছেন শুভেন্দু অধিকারী।
তাঁর আরও অভিযোগ, ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় আনুমানিক ৩৮০০ ভোটার স্লিপ ফেরত এসেছে। অর্থাৎ এই ভোটারদের কোনও হদিশ মেলেনি। তাঁর দাবি, এই নিখোঁজ ভোটারদের ভোটগুলোই নকল আঙুল ব্যবহার করে তৃণমূল দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং তাদের ভোটব্যাঙ্ক শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। আর এ বিষয় নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ট্রেনের টিকিটের চিন্তা ছাড়ুন, শুরু হল কলকাতা গোয়া বাস, জানুন সময়সূচি ও ভাড়া
অন্যদিকে শুভেন্দুর এই অভিযোগকে পাত্তা দিতে নারাজ রাজ্যের শাসক দল। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, বিজেপি বুঝতে পেরেছে যে, ভবানীপুরে তাদের জয় অসম্ভব। তাই হারের জন্য আগেভাগে অজুহাত রেডি করে রাখছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, মানুষের রায়কে ভয় পেয়ে বিজেপি এখন এরকম ভুলভাল মন্তব্য করছে। এখন দেখার এই হেভিওয়েট কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি শুভেন্দু অধিকারী, কার পাল্লা ভারী হয়।










