‘অসুস্থতা’ দেখিয়ে হাত ছেড়েছিলেন দিদির, এক মাসের মধ্যেই ঋতব্রত শিবিরে বালু

Published:

Jyotipriya Mallick

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অনুব্রত মণ্ডলের পর শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবির অর্থাৎ বিদ্রোহী সংগঠনে যোগ দিলেন দিদির প্রিয় পাত্র বালু (Jyotipriya Mallick)! কিছুদিন আগেই অসুস্থতার কথা জানিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ইস্তফার চিঠি পাঠিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। জল্পনা চলছিল, এবার হয়তো তিনি বিদ্রোহী শিবিরেই পা বাড়াবেন। সেই জল্পনাতেই পড়ল শিলমোহর। গতকাল নব্য তৃণমূলের তরফ থেকে জেলা সভাপতিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর সেখানেই দেখা যাচ্ছে, অনুব্রত মণ্ডলের পাশাপাশি শান্তনু সেন সহ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন।

ঋতব্রত শিবিরে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের একেবারে গোড়ার সৈনিক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেই ২০০১ থেকে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তারপর খাদ্যমন্ত্রীসহ একাধিক দায়িত্ব পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে। বলতে গেলে দিদির ডান হাত নামেই পরিচিত এই বালু। তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। সেই সঙ্গে হাবরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দেবদাস মন্ডলের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। হেরে গিয়েই মমতার হাত ছাড়েন তিনি। দলীয় নেত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে জানান, অসুস্থতার জন্য তিনি দলের সঙ্গে থাকতে পারছেন না। কিন্তু কেই বা জানত, ১ মাসে মধ্যে পাল্টি খেয়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগদান করবেন বালু!

কিন্তু যে শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে দল ছাড়লেন, তাঁকে কীভাবে এক মাসের মধ্যে বিদ্রোহী শিবিরে রাজ্য কমিটির সদস্য হওয়ার প্রস্তাব দিল ঋতব্রত? যদিও এ নিয়ে তৈরি হচ্ছে সংশয়। কিন্তু জানতে চাওয়া হলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা এ নিয়ে কাউকে কিছু বলিনি। এই প্রশ্ন আমাকে না করে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককেই করতে হবে। তাঁকে প্রশ্ন করলেই সমস্ত উত্তর পাবেন।” যদিও সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।

আরও পড়ুন: সেবাশ্রয়ের চিকিৎসায় পা বাদ, ফের অভিষেকের বিরুদ্ধে FIR, স্বাস্থ্যভবনে ডাক মহিলার

তবে শুধু জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নয়, ঋতব্রত শিবিরের জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন ‘বীরভূমের বাঘ’ তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরেক প্রিয় পাত্র অনুব্রত মণ্ডল। এমনকি দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি বলেন, “আমি তো তৃণমূলের জেলা সভাপতি ছিলাম। জেল থেকে ফিরে আসার পরেও। হঠাৎ করে বাদ দিয়ে দিল। তৃণমূলের সংগঠন এখনও ভালো জায়গায় রয়েছে। কোনও অসুবিধা হবে না।” পাশাপাশি তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেনও এদিন ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন।