বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গত ম্যাচে মেসিদের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিলেন মিশরের একজন, তাঁর নাম মোস্তাফা জিকো আবদেলরউফ (Mostafa Ziko)। ম্যাচের একেবারে শুরু থেকেই গোল করেছিলেন তিনি। আর্জেন্টিনাকে (Argentina) পরপর দুটি গোল খাওয়ালেও একটি গোল বাতিল হয়েছিল এই মিশরীয় ফুটবলারের। দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলেও অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। এক কথায়, আর্জেন্টিনাকে একেবারে হারের মুখে নিয়ে গিয়ে গোটা ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলার হয়ে উঠেছিলেন জিকো। কিন্তু এই ফুটবলারের অতীত জানলে চোখ ভিজবে!
জিকোর অতীত বেশ কঠিন ছিল
মিশরের উত্তর উপকূলে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটাতে যাবেন বলে তৈরি হচ্ছেন জিকো। এমন সময় ফোন আসে মিশরের জাতীয় দলের কোচ হোসাম হাসানের। আর ওই এক ফোনেই বদলে গিয়েছিল জিকোর জীবন। জানতে পারেন তাঁকে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে নামতে হবে। সে কথা শুনেই ছুটি বাতিল করে ছুটে গিয়েছিলেন ব্রিগেডে। বিশ্বকাপের দলে যোগ দিয়েই নিজেকে পুরোপুরি ঝালিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। সেই মতোই, গত ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নেমে পরপর দুটি গোল করেন তিনি। যদিও একটি গোল বাতিল করে দেয় রেফারি।
এর আগে অবশ্য নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও গোল করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধেও গোল পেয়েছিলেন এই খেলোয়াড়। মিশরের জাতীয় দলের এই ফুটবলার জানালেন, “আমি একেবারেই আশা করতে পারেনি যে বিশ্বকাপে খেলব। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম। তখন কোচ আমাকে ফোন করে বললেন খেলতে হবে। আমি ছুটে চলে আসি।”
অবশ্যই পড়ুন: ‘কমিউনিস্ট, বুদ্ধিজীবীদের জন্য অপরাধ বৃদ্ধি! ওদের মাথায় ডিম ছুঁড়ুন’ নিদান দিলীপ ঘোষের
বলাই বাহুল্য, মিশরের হয়ে একেবারে শুরু থেকেই ফুটবলে নিজের দখল জমিয়েছিলেন জিকো। দেশটির নিম্ন বিভাগের ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করে কঠোর পরিশ্রমকে সঙ্গী করেই মিশরের জাতীয় ফুটবল দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, জিকোর বাবার একটি জুতোর দোকান ছিল। পরিবারকে সাহায্য করতে সেই জুতোর দোকানে মাঝেমধ্যেই বসতেন তিনি। বিক্রি করতেন জুতোও। এছাড়াও নিজের ফুটবল সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাঁকে। তবে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতেই যেন মন ভেঙে দুখন্ড এই মিশরীয় ফুটবলারের।










