বাবার সাথে বেচেছেন দুধ, ছাড়েন কুস্তিও! সেই ছেলেই ভারতকে সোনা জেতানোর পথে

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সফল হওয়া মুখের কথা নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ অধ্যাবসায়, চেষ্টা এবং কিছু করে দেখানোর প্রবল খিদে। এসব যাঁদের মধ্যে আছে তাঁরাই সফলতার শিখরে পৌঁছেছেন (Success Story)। সেই পথ ধরেই এগিয়ে যেতে চান হরিয়ানার বাসিন্দা ভারতীয় কুস্তিগির (Wrestling) নিতেশ সিওয়াচও (Nitesh Siwach)। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই কুস্তিতে পা রেখেছিলেন তিনি। এবার এই 23 বছর বয়সী খেলোয়াড় অংশ নিতে চলেছেন এশিয়ান গেমসে। সেখানে অংশগ্রহণ করে দেশের জন্য সোনা জেতাটাই এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

বাবার সাথে দুধ বিক্রি করেছেন নিতেশ

একটা সময় নিতেশের বাবা তাঁকে বলেছিলেন পেছনে ফিরে তাকানোর কোনও সুযোগ নেই। তোমাকে এশিয়ান গেমসে পদক জিততেই হবে। এরপর একে একে অলিম্পিক এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও ভারতের জন্য মেডেল আনতে হবে। বাবার সেই কথা রাখতেই নিজের সর্বশক্তি দিয়ে কুস্তিতে লেগে পড়েন নিতেশ। তবে শুরুটা আর পাঁচটা কুস্তিগীরের মতো হয়নি। 2012 সালের ঘটনা। সে বছর হরিয়ানায় প্রতাপ স্কুলে কবাডি খেলতে গিয়েছিলেন নিতেশ। সেখানেই আয়োজিত হয়েছিল কুস্তি কম্পিটিশন। সেটা দেখেই ভাল লেগে যায় তাঁর।

কুস্তি খেলাটা ভাল লেগেছে কথা বাবাকে জানাতেই বাবাও নিতেশকে পূর্ণ সমর্থন করেন। বলেন, তোকে এই খেলাতেই কিছু করে দেখাতে হবে। এরপর থেকে পুরোপুরি তৈরি হয়ে কুস্তিতে নেমে পড়েন নিতেশ। তাঁর বাবার স্বপ্ন ছিল, ছেলেকে একজন বড় কুস্তিগীর হিসেবে দেখবেন। টানা দু’বছর কুস্তির জন্য প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন নিতেশ। তবে একটা সময় হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের কারণে শেষ পর্যন্ত খেলা থেকে সরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। হয়তো এখানেই নিতেশের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতে পারত।

জানা গিয়েছে, বাড়িতে একটা দীর্ঘ সময় বিশ্রাম করার পর বাবার দুধের ব্যবসায় সাহায্য করতেন নিতেশ। বাবা বাড়িতে বাড়িতে দুধ পৌঁছে দিতেন। কাজেই পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভাল না হওয়ায় একটা সময় বাবাকে সাহায্য করতে কুস্তির আখড়া ছেড়ে দিয়ে নিজেও সেই কাজে লেগে পড়েন নিতেশ। বেচতে শুরু করেন দুধ। বাড়িতে বাড়িতে অর্ডার অনুযায়ী পৌঁছে দিতেন মান সম্পন্ন গরুর দুধ। এই কাজ করতে করতেই একটা সময় নিতেশের মনে হয়েছিল এভাবে কুস্তি ছেড়ে দেওয়া যাবে না। সে বাবা মাকে জানায়, “আমাকে অন্তত ছয়টা মাস সময় দাও। কুস্তিতে আরও একবার চেষ্টা করতে দাও!”

 

আরও পড়ুন: কাজ হয়নি কারও কথায়, ভারত বলতেই যুদ্ধ থামাতে পুতিনের সাথে বৈঠকে রাজি জেলন্সকি

জানা গিয়েছে, ছেলের এমন আবেদনে একবারে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন নিতেশের বাবা, মা। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানো। এরপর স্কুল ন্যাশনালসে পদক জেতেন নিতেশ। আর তারপর থেকে পেছনে ফিরে তাকানো তিনি। পরবর্তী বছরগুলিতে একে একে নতুন নতুন সাফল্য ধরা দিতে থাকে হরিয়ানার ছেলের ভাগ্যে। 2025 এ কুস্তিতে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জেতার তিনি। পরের বছর অর্থাৎ 2026 এ জেতেন রূপো। এবার নিতেশের নজর এশিয়ান গেমসে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছেন, “বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। একজন কুস্তিগীর হিসেবে ভারতের হয়ে এশিয়ান গেমসে সোনা জেতাই আমার বর্তমান লক্ষ্য।”