অনন্যা সরকার, কলকাতা: বাঙালি অ্যারোস্পেস ও ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ার (Aerospace and Materials Engineer) রাজীব দাশগুপ্ত নাসার (NASA) ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন’ (International Space Station) কর্মসূচির চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে (Lyndon B. Johnson Space Center) বিভিন্ন নেতৃত্বমূলক কারিগরি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কাজের মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে উপকরণ ও প্রক্রিয়া ব্যবস্থাপনা, মানববাহী মহাকাশ উড্ডয়ন কর্মসূচি এবং নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও কক্ষপথীয় কার্যক্রম।
কলকাতা থেকে নাসার সফর
রাজীব দাশগুপ্ত তাঁর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন কলকাতার পার্ক সার্কাসের ডন বস্কো স্কুলে। পরবর্তীতে তিনি শিবপুরের ঐতিহাসিক বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (বর্তমানে আইআইইএসটি বা IIEST) থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি পাড়ি দেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে ফ্র্যাকচার মেকানিক্স ও ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্সের ওপর বিশেষায়িত পড়াশোনা ও পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ডক্টরেটের আগে তিনি ভারতের স্টিল ইন্ডাস্ট্রিতেও কিছুসময় কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন রাজীব দাশগুপ্ত প্রথমে অ্যারোস্পেস কোম্পানি ‘লকহিড মার্টিন’-এ তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৩ সালে তিনি সরাসরি নাসায় যোগ দেন এবং টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত জনসন স্পেস সেন্টারে দীর্ঘ সময় কর্মরত ছিলেন। তাঁর কাজের পরিধির মধ্যে ছিল হিউম্যান স্পেসফ্লাইট প্রোগ্রাম, ম্যাটিরিয়ালস অ্যান্ড প্রসেস ম্যানেজমেন্ট, সেফটি অ্যাসেসমেন্ট এবং অরবিটাল মিশনে কারিগরি নেতৃত্বদান। তিনি নাসার ‘বিগেলো এক্সপ্যান্ডেবল অ্যাক্টিভিটি মডিউল’ (BEAM), যা আইএসএস-এ পরীক্ষিত একটি প্রসারণযোগ্য বাসস্থান প্রযুক্তি, তার প্রকল্প ও টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেশন ম্যানেজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আরও পড়ুন: বড়সড় নাশকতার ছক! ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণে উড়ল রেললাইন
বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন কর্মসূচির চিফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে রাজীব দাশগুপ্ত কক্ষপথে স্থাপিত এই অনন্য গবেষণাগারের প্রকৌশলগত দিকগুলি পরিচালনা করবেন, পরিচালনগত নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণ এবং কারিগরি অখণ্ডতা বজায় রাখার কাজ করবেন। তাঁর এই দায়িত্ব কেবল একজন বাঙালি প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী মানব মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে ভারতের শিক্ষা ও দক্ষতার এক উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতিও বটে।










