আপ এবং ডাউন ট্রেন বলতে কী বোঝায়? জানুন সঠিক তথ্য

Published:

up down train

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রেলস্টেশনে পা রাখলেই কানে ভেসে আসে, নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে আসতে চলেছে কোনও আপ (Up Train) ট্রেন, আবার অন্য কোনও প্ল্যাটফর্মে ঢুকবে ডাউন (Down Train) ট্রেন। আশ্চর্যের বিষয় হল, নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করেন এমন অনেক যাত্রীর কাছেও আপ ও ডাউন ট্রেনের পার্থক্যটা স্পষ্ট নয়। ফলে কখনও কখনও ভুল দিকের ট্রেনে উঠে পড়ার মতো ঘটনাও ঘটে। অনেকেই জানেন না রেলের এই আপ ও ডাউন শব্দ দুটির পিছনে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম এবং দীর্ঘদিনের ইতিহাস। ট্রেনটি কোন দিক থেকে কোন দিকে যাচ্ছে, সেটা বোঝাতেই এই বিশেষ পরিভাষা ব্যবহার করা হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই আপ ও ডাউনের অর্থ।

কোথা থেকে হল আপ-ডাউনের উৎপত্তি?

সাধারণভাবে ভারতীয় রেলে কোনও ট্রেন তার সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে হেডকোয়ার্টার অথবা কাছাকাছি ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টারের দিকে এগোলে তাকে আপ ট্রেন বলা হয়। অন্যদিকে, সেই ট্রেন যখন তার সদর দফতর থেকে দূরে সরে যায়, তখন সেটিকে ডাউন ট্রেন হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ, আপ মানেই সবসময় উত্তর দিকে যাওয়া কিংবা ডাউন মানেই দক্ষিণ দিকে যাওয়া এমনটা কিন্তু নয়। কোন রুটে ট্রেনটি চলাচল করছে এবং সেই রুটের নির্ধারিত দিক কোনটি, তার উপরেই বিষয়টি নির্ভর করে। এই নিয়মের সাহায্যে রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেন চলাচল ও পরিচালনার ক্ষেত্রে দিক নির্দেশ করে।

এই আপ ও ডাউন নামকরণের পিছনে রয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের ইতিহাস। ব্রিটেনে লন্ডনকে কেন্দ্র করে রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে যে ট্রেনগুলি লন্ডনের দিকে যেত, সেগুলিকে আপ এবং লন্ডন থেকে দূরে যাওয়া ট্রেনগুলিকে ডাউন বলা হত। ভারতে বিভিন্ন রেলওয়ে কোম্পানি নিজেদের মতো করে এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল। যেমন, গ্রেট ইন্ডিয়ান পেনিনসুলার রেলওয়ে বোম্বাইকে কেন্দ্র করে এই নিয়ম অনুসরণ করত। মাদ্রাজ রেলওয়ের ক্ষেত্রেও মাদ্রাজ ছিল গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আবার ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কলকাতাকে নিজেদের কেন্দ্র হিসেবে ধরে কলকাতার দিকে আসা ট্রেনকে ডাউন বলে।

১৯৫১ সালে বিভিন্ন রেলওয়ে ব্যবস্থাকে একত্রিত করে ভারতীয় রেলের নতুন কাঠামো তৈরি হওয়ার পরেও পুরনো নিয়মের প্রভাব অনেকাংশে থেকে গিয়েছে। বিভিন্ন রেলওয়ে জোন ও ডিভিশনের নিজস্ব পরিচালনাগত নিয়ম এবং দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির কারণে আপ ও ডাউন নির্ধারণে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। এমনকি একটি দীর্ঘ রুটে চলাচলকারী ট্রেন বিভিন্ন রেলওয়ে ডিভিশনের সীমানা অতিক্রম করার সময় তার আপ-ডাউন পরিচিতিতেও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তাই শুধুমাত্র ট্রেনের যাত্রা শুরুর স্টেশন অথবা গন্তব্য দেখে সব জায়গায় আপ ও ডাউন চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।

অনেকের ধারণা, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতেও আপ ও ডাউন ট্রেনের নামকরণ করা হয়। অর্থাৎ দুটি স্টেশনের মধ্যে যে স্টেশন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশি উঁচু, সেই স্টেশনে আগত ট্রেনকে আপের ট্রেন বলা হয়। অন্যদিকে তুলনামূলক কম উচ্চতায় অবস্থিত স্টেশনের দিকে এগোনো ট্রেনগুলিকে ডাউনের ট্রেন বলা হয়। কিন্তু ভারতীয় রেলের সর্বত্র এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। রেলের প্রচলিত পরিচালনাগত নিয়মে সংশ্লিষ্ট হেডকোয়ার্টার ও ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টারের অবস্থানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: জানেন কালীপুজোর আগে কেন শ্যামাপোকার উপদ্রব বাড়ে?

সুতরাং, পরের বার স্টেশনে আপ কিংবা ডাউন ট্রেনের ঘোষণা শুনলে শুধু নামের উপর নির্ভর না করে ট্রেনটির নির্ধারিত রুট ও গন্তব্য সম্পর্কে জেনে নেওয়াই ভালো। বিশেষ করে অপরিচিত রুটে যাতায়াতের সময় ট্রেনের নম্বর, গন্তব্য এবং স্টেশনের ঘোষণার দিকে নজর রাখলে ভুল ট্রেনে উঠে পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে। প্রয়োজনে স্মার্টফোনের গুগল ম্যাপ, বিভিন্ন ট্রেন সম্পর্কিত অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে আপনার যাতায়াতের রুটও স্পষ্ট হবে আর ভুল ট্রেনে ওঠার দুশ্চিন্তা থেকেও মুক্ত হবেন।

google button