অনন্যা সরকার, মধ্যপ্রদেশ: ২০২৪ সালে মধ্যপ্রদেশের সাগরে স্মার্ট মিটার (Smart Meter) বসানোর সময় বিদ্যুৎ কোম্পানি বিলিংয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও স্বয়ংক্রিয় মিটার রিডিংয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু অতিরিক্ত বা ভুল বিল ও অস্বাভাবিক রিডিং নিয়ে হাজার হাজার অভিযোগের পাশাপাশি, এখন একটি নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। দৈনিক ভাস্করের রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র ১০০ – ২০০ টাকার বকেয়া থাকলেই কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। পুনরায় কানেকশন চালু করার জন্য ৩৪০ টাকা চার্জ নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনা সাধারণ মানুষদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সামান্য বকেয়ায় কেটে দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ
মধ্যপ্রদেশের সাগরের দয়ানন্দ ওয়ার্ডে, অনিতা ভাটনাগর নামের এক স্মার্ট মিটার ব্যবহারকারী ১৯৭ টাকার বিল দেরি করে দেওয়ার কারণে তা বেড়ে ২০২ টাকা হয়। তবে, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তাঁকে ৫৪২ টাকা পরিশোধ করতে হয়। এদিকে, লাজপতপুরায় কাশিরাম লারিয়ার ১,৫৩২ টাকার বিল বেড়ে ১,৫৫১ টাকা হয় এবং সংযোগ পুনরায় চালু করার জন্য অতিরিক্ত ৩৪০ টাকা দাবি করা হয়। আবার বিবেকানন্দ ওয়ার্ডে, মনোহর লাল সাহুর ১,৫৯৭ টাকার বিল জরিমানাসহ ১,৬১৭ টাকায় পৌঁছেছে, তবে সংযোগ পুনরায় সচল করতে তাঁকে ১,৯৫৭ টাকা দিতে হয়।
এছাড়াও, মোহন নগরে প্রায় ২,৫০০ টাকা বকেয়া থাকায় রাখিবন্ধনের দিন সঞ্জয় নানহোরিয়ার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এমনকি তাঁর অভিযোগ, তিনি বকেয়া পরিশোধ করা সত্ত্বেও, দুই দিন পর তাঁর সংযোগ আবারও বিচ্ছিন্ন করা হয়। আর প্রতিবারই সংযোগ ফেরানোর সময় তাঁর ওপর ৩৪০ টাকা করে চার্জ ধার্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ৫৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট, নভেম্বরে দুই গাড়িতে বিরাট ছাড়ের ঘোষণা টাটার
স্মার্ট মিটার নেওয়ার সময় গ্রাহকদের একটি সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা রাখতে হয় – যার পরিমাণ শহরে প্রায় ২,০০০ টাকা থেকে ২৫,০০,০০০ টাকা। কোনো গ্রাহক বিল পরিশোধ না করলে এই অর্থ থেকে কেটে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। আগের ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও পুনঃস্থাপনের প্রক্রিয়ায় কোম্পানির ২০০ টাকা খরচ হতো। এখন অফিসে বসে আরামে স্মার্ট মিটারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যায়, তাও কেন এই কাজের জন্য ৩৪০ টাকা চার্জ নেওয়া হচ্ছে – তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছেন গ্রাহকরা। জানিয়ে রাখি, ‘ইলেকট্রিসিটি অ্যাক্ট, ২০০৩’-এর ৫৬(১) ধারা অনুযায়ী, অন্তত ১৫ দিনের লিখিত নোটিশ দেওয়ার পরও যদি বকেয়া পরিশোধ না করা হয়, তখনই কেবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে সরবরাহকারী সংস্থা।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশ পূর্ব অঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (MP East Discom)-এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুভাষ রায় জানান যে, মাত্র ১০০ টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলেও বকেয়া অর্থের পরিমাণ বেড়ে হাজার হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে। এর ফলে, সময়মতো বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়া প্রায় ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে, ৫০০ টাকা বা তার কম অঙ্কের বিলের ক্ষেত্রে, প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটলে জরিমানা মকুব করা হয়েছে।










