সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ শীত আসছে। আর এই সময়ে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার মজাই আলাদা। আপনিও যদি নতুন নতুন জায়গায় ঘুরতে এবং অচেনা স্থান এক্সপ্লোর করতে ভালোবাসেন, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ব্লকের কেশরা (Keshra Village)। সবুজ পাহাড়, ঘন জঙ্গল এবং নির্জন গ্রাম—সব মিলিয়ে কেশরাকে স্থানীয়ভাবে অনেকেই ‘মিনি অরুণাচল’ (Mini Arunachal Pradesh) বলে উল্লেখ করেন।
বাংলার বুকেই রয়েছে ‘মিনি অরুণাচল প্রদেশ’
পুরুলিয়া (Purulia) জেলার এই ছোট্ট গ্রামটি শাল, শিমুল, পিয়াল ও পলাশ গাছের সবুজ অরণ্যে ঘেরা। প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ, পাহাড়ি দৃশ্য এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রা পর্যটকদের মন কেড়ে নিতে পারে। এই অঞ্চলের সঙ্গে মুণ্ডা, শবর, সাঁওতাল ও খেড়িয়া-সহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের যোগ রয়েছে। ফলে প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্থানীয় জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার সুযোগও মিলতে পারে।
কেশরা ভ্রমণে শুধু জঙ্গল বা পাহাড় নয়, ঘুরে দেখতে পারেন আশপাশের একাধিক প্রাকৃতিক ও দর্শনীয় স্থান। তালিকায় রয়েছে— রাইকা পাহাড়, নেরা পাহাড়, সহেল বাঁধ, পোপো হ্রদ, ভালু পাহাড়, ঘোরাটিকা বাঁধ, তালবেরিয়া ড্যাম, সুতান ফরেস্ট, দুয়ারসিনি পাহাড় ও বন, বুরিজোর পাহাড়, পাখি গ্রাম, হস্তশিল্পের গ্রাম, সাতগুড়ুম নদী, দুয়ারসিনি মন্দির ইত্যাদি। সব মিলিয়ে শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে কয়েকটা দিন প্রকৃতির মাঝে কাটাতে চাইলে পুরুলিয়ার কেশরা হতে পারে আপনার পরবর্তী অফবিট ভ্রমণের ঠিকানা। পাহাড়, অরণ্য, জলাশয় এবং গ্রামীণ পরিবেশের মেলবন্ধনে এই জায়গাটি ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে।
আরও পড়ুনঃ কালীপুজোতে শিয়ালদা ডিভিশনে চলবে একগুচ্ছ স্পেশাল ট্রেন, তালিকা দিল পূর্ব রেল
কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে কেশরার দূরত্ব আনুমানিক ২৭০ কিলোমিটার। ট্রেন বা বাস—দু’ভাবেই যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। হাওড়া থেকে পুরুলিয়া স্টেশনে পৌঁছে সেখান থেকে অটো বা গাড়ির মাধ্যমে আপনি আপনার গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারেন। এছাড়া কলকাতার ধর্মতলা থেকে বান্দোয়ানগামী বাসে করে নেকড়া মোড় স্টপেজে নামতে পারেন। এরপর সেখান থেকে অটো নিয়ে আপনি কেশরা পৌঁছে যেতে পারবেন।










