বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় বিদ্যুৎ (Electricity From Train)। তবে এবার ট্রেন চললেই উৎপাদন করা যাবে বৈদ্যুতিক শক্তি। হ্যাঁ, সেই প্রযুক্তিরই উদ্ভাবন করে ফেলেছেন গবেষকরা। এতদিন ট্রেন চলার সময় রেললাইনে (Indian Railways) যে কম্পন তৈরি হতো সেটাকে রেল পরিষেবার খুব সাধারণ অংশ হিসেবেই দেখা হতো। তবে এবার সেই কম্পনকে কাজে লাগিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি তৈরি করে ফেলেছেন গবেষকরা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এর ফলে ভবিষ্যতে রেললাইনের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী ছোট সেন্সর চালানোর জন্য আলাদা বিদ্যুৎ সংযোগ বা ব্যাটারির প্রয়োজন পড়বে না।
ট্রেন থেকেই তৈরি হবে বিদ্যুৎ?
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারী ট্রেন রেললাইনের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় লাইনে নড়াচড়া বা কম্পন তৈরি হয়। গবেষকরা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে সেই যান্ত্রিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চলেছেন। এই প্রযুক্তিতে মূলত তিনটি অংশ রয়েছে। যার মধ্যে প্রথমটি হল কম্পনকে কাজে লাগিয়ে গতির রূপান্তর ঘটনোর ব্যবস্থা, দ্বিতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী জেনারেটর এবং তিন নম্বরটি হল উৎপন্ন বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থা।
সাধারণত ট্রেন চলার সময় রেল লাইনের কম্পনকে সিজর-লিঙ্কেজ এবং স্লাইডার মেকানিজমের সাহায্যে একমুখী ঘূর্ণনগতিতে রূপান্তরিত করা হবে। পরবর্তীতে এই ঘূর্ণনকে কাজে লাগিয়েই তৈরি হবে থ্রি ফেজ জেনারেটার বিদ্যুৎ। সবশেষে যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে সেই উৎপন্ন বিদ্যুৎকে রেক্টিফিকেশন ও ফিল্টারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হবে। পরে ওই বিদ্যুৎ দিয়েই প্রয়োজন বুঝে ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্র চালানো যাবে।
আরও পড়ুন: ফুটবল ম্যাচ খেলতে নেমেই মারামারি দু’দলের প্লেয়ারদের, আহত ৫০
কতটা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে এই প্রযুক্তি?
রিপোর্ট বলছে, পরীক্ষা করে যা দেখা গিয়েছে তাতে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সর্বোচ্চ 7.88 ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। অর্থাৎ এটাই এই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা। অন্যদিকে এর কার্যকারিতা 73.38 শতাংশ। তবে পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা 7.88 ওয়াট হলেও এর অর্থ এই নয় যে সারাদিনে প্রত্যেকটি ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে একই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। মনে করা হচ্ছে, ভারতের বিরাট রেল নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির কাজ করাটা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে। সেক্ষেত্রে ভারতীয় রেলের হাজার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেললাইনের বিভিন্ন অংশে সেন্সর বসিয়ে সেগুলিকে দীর্ঘক্ষন চালানো গেলে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।










