চুরির ফোন এবার হয়ে যাবে পুরোপুরিভাবে অকেজো, এল নতুন “কিল সুইচ” প্রযুক্তি

Published:

Kill Switch Technology Introduced in Britain

অনন্যা সরকার, কলকাতা: ব্রিটেনে স্মার্টফোন চুরি (Smartphone Theft) একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে লন্ডন শহরে। চুরি হওয়া ফোনগুলিকে দ্রুত রিসেট বা পুনঃসক্রিয় করে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করছে অপরাধীরা। বেশকিছু দিন ধরেই এই স্মার্টফোনের চুরি রোধ করার জন্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলি প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। আর এবার ব্রিটেনের দুটি প্রধান টেলিকম কোম্পানি ডিভাইসে “কিল সুইচ” প্রযুক্তি (Kill Switch Technology) চালু করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শোরুম থেকে চুরি যাওয়া নতুন ফোন চালু করার সাথে সাথেই সেটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া যাবে। এর ফলে মোবাইল ফোনের কালোবাজার সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

কিল সুইচ হবে স্মার্টফোন চুরির দাওয়াই

যুক্তরাজ্যের দুটি প্রধান মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানি – ভার্জিন মিডিয়া ও২ (Virgin Media O2) এবং ভোডাফোন থ্রি (Vodafone Three) অত্যাধুনিক “কিল সুইচ” প্রযুক্তি চালু করেছে। প্রসঙ্গত, অ্যাপল (Apple) এবং স্যামসাং (Samsung)-এর মতো শীর্ষস্থানীয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলি তাদের স্মার্টফোনে “ইউনিভার্সাল আন্টি-থেফ্ট লক” সংযুক্ত করতে অস্বীকার করেছিল। ফলে স্মার্টফোনকে সুরক্ষিত করার জন্য এগিয়ে এসেছে টেলিকম কোম্পানিগুলোই। তারা কিল সুইচ প্রযুক্তি চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই নয়া প্রযুক্তি রিটেইল শোরুম থেকে নতুন স্মার্টফোন চুরি করে এমন চোরেদের চক্রকে দমন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানিয়ে রাখি, ইদানিং ব্রিটেনের মোবাইল শোরুমগুলোতে ডাকাতি ও চুরির ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র লন্ডন শহরেই গত বছর ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ মোবাইল চুরির শিকার হয়েছেন। এমতাবস্থায় চুরি যাওয়া ডিভাইস বিক্রির অবৈধ বাজারকে বন্ধ করার জন্য এই নতুন ট্র্যাকিং প্রযুক্তি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানিয়ে রাখি, ইতিমধ্যেই নেদারল্যান্ডসের মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটররাও তাদের স্টক সুরক্ষিত রাখতে এইরকম পদক্ষেপ নিয়েছে।

কীভাবে কাজ করে ‘কিল সুইচ’?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সিকিউরিটি সিস্টেমটি অত্যন্ত কঠোর নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয় এবং এটি বিশেষভাবে সংগঠিত অপরাধী চক্রকে দমন করার উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তিটি শুধুমাত্র গ্রাহকদের কাছে এখনও বিক্রি করা হয়নি এমন ‘ব্র্যান্ড-নিউ’ স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কোনও চোর দোকান থেকে একটি ফোন চুরি করে প্রথমবার চালু করার সাথে সাথেই, ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিভাইস নির্মাতার একটি বিশেষ ডেটাবেসে রেজিস্টার হয়ে যায়। আর এই ডেটাবেসে কোনও ফোন শনাক্ত হয়ে গেলে, একটি রিমোট কমান্ড পাঠানো হয় যা হ্যান্ডসেটটিকে সম্পূর্ণ অকেজো করে দেয়। 

আরও পড়ুনঃ বকেয়া ১০৭ চালানের ২.৩৬ লাখ! বাইকের ধরতেই পুলিশের চোখ উঠল কপালে

অর্থাৎ, ফোনটি চোরের হাতে গিয়ে কাঁচ ও প্লাস্টিকের টুকরোয় পরিণত হবে। তবে, টেলিকম অপারেটররা আইনসম্মতভাবে কেনা কোনও ফোনকে এরকমভাবে বিকল করতে পারবে না, কারণ একবার বিক্রি হয়ে গেলে ডিভাইসটির মালিকানা বদল হয়ে যায়। তাই কোনও ব্যবহৃত ফোনে এই কিল সুইচ প্রযুক্তি কাজ করবে না।