তৃণমূলের পার্টি অফিসে টাকার পাহাড়! উদ্ধার ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা

Published:

huge-cash (1)

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: অভিষেক ব্যানার্জির আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে (Sumit Roy) ঘিরে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ও সিআইডি। শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে মাটি চুরির অভিযোগেও মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। আর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তদন্তে উঠে এসেছে বিরাট চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডায়মন্ড হারবারের সরিষায় তৃণমূলের (Trinamool Congress) একটি পার্টি অফিস (Party Office) থেকে উদ্ধার হল ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা নগদ।

আর কী কী মিলল পার্টি অফিস থেকে?

শালবনির জমি দুর্নীতি মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই সুমিত রায়ের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছিল সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সরকারি জমি বেআইনিভাবে বিক্রির কারবারে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। সিআইডির চার্জশিটে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সুমিতের মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি টাকা জমা পড়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। অন্যদিকে, ডায়মন্ড হারবারের কালিতলা আশুতি থানায় সরকারি ও বেসরকারি জমির মাটি চুরির অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের হয়। সেই মামলাতেই আদালতের নির্দেশে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।

তদন্তকারীদের দাবি, সুমিতকে দফায় দফায় জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বুধবার সকালে সরিষার ওই পার্টি অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। অফিসের ভিতরে একটি আলমারিতে রাখা ব্যাগ খুলতেই মেলে টাকার বান্ডিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদার উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ নিশ্চিত করেছেন। তবে এত বিপুল পরিমাণ নগদ সেখানে কেন রাখা হয়েছিল, কোথা থেকেই বা এই টাকা এল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। টাকার উৎস জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

একদিকে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্ত, অন্যদিকে দলের পার্টি অফিস থেকে বিপুল নগদ উদ্ধারের ঘটনা তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়াল। রাজনৈতিক দলগুলির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনেও স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং টাকার উৎস প্রকাশ্যে আনার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের দলের প্রার্থীকে হারিয়ে আমেরিকার নির্বাচনে জয় ‘ভারতীয়র’, চিনে নিন পিয়া ডান্ডিয়াকে

এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কালিতলা আশুতি থানার মামলায় আদালত সুমিতকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং অন্য কোনও আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে আবার কোন নতুন তথ্য উঠে আসে এবং মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর জনগণের।

google button