প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে গণধর্ষণের (Rape Case) অভিযোগ প্রেমিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, হুমকি দিয়ে এবং ভয় দেখিয়ে গত ১ বছর ধরে ধর্ষণ করা হয়েছে তরুণীকে। শুধু তাই নয়, ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিক যুবকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করে ওই ‘প্রেমিক’। ঘটনাটি ঘটেছে চন্দননগরে (Chandannagar)। আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই গ্রেফতার করা হয়েছে ৪ জনকে। মঙ্গলবার তাদের আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণীকে গণধর্ষণ!
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, চন্দননগরের হরিদ্রডাঙার এক যুবক চুঁচুড়া তালডাঙায় একটি সেলুন চালায়। ওই এলাকারই এক তরুণীর সঙ্গে বছর খানেক আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাঁর। সেই সময়ে উচ্চ-মাধ্যমিক পাশ করেছিলেন ওই তরুণী। যদিও সেই সময় যুবকের আসল রূপ বুঝতে পারেনি ওই তরুণী। অভিযোগ, সম্পর্ক গড়ে তোলার পরেই কিছু মাস পরে ওই তরুণীর সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে ওই যুবক। কাউকে কিছু যাতে না বলে তার জন্য গুলি করে মেরে ফেলার ভয়ও দেখানো হয় তাঁকে। এমনকি ওই যুবক তার বন্ধুদের দিয়েও ওই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করায়।
গ্রেফতার ৪
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবক নিজের সেলুনে ও বিভিন্ন পার্কে নিয়ে গিয়ে তরুণীর ওপর শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার চালাত। কিন্তু গত রবিবার তরুণীর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের। শেষে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে অত্যাচারের ঘটনা। তারপরেই চন্দননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তারপরেই পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে মূল অভিযুক্ত সহ মোট ৪জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মঙ্গলবারই ধৃতদের তোলা হয় চন্দননগর আদালতে। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এদিকে অভিযুক্তদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলে গতকালই চন্দননগর থানার সামনে জড়ো হয়েছিল একটা সমাজসেবী সংগঠনের সদস্যরা।
আরও পড়ুন: মমতায় প্রিয় নীল-সাদা অতীত, নবান্ন এবার সাজছে গেরুয়া রঙ-এ, দেখুন ভিডিও
সমাজসেবী সংগঠনের তরফের পিয়ালী পাল জানান, গণধর্ষণের কথা জানতে পারার পরেই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করিয়েছেন নির্যাতিতার পরিবার। মেয়েটির যাতে সুবিচার পান সেই চেষ্টাই তাঁরা করবেন বলে জানিয়েছেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মেয়েটা পড়াশোনাতে খুব ভালো ছিল। রীতিমতো মেধাবী ছাত্রী বলা যায়। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর সায়েন্স নিয়ে পড়ছিল। কিন্তু গত এক বছর আগে থেকেই এই ঘটনা ঘটতে থাকায় মানসিকভাবে সে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সকলেই অভিযুক্তদের কঠিনতম শাস্তির দাবি তুলেছে।










