প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাংলার ক্ষমতা থেকে তৃণমূল বিদায় নিতেই এবার নবান্নে (Nabanna) দেখা গেল অন্য চিত্র। নীল-সাদা রং বদলে গেরুয়া রঙের (Saffron) প্রলেপ দেখা গেল নবান্ন চত্বরে। গতকাল, মঙ্গলবার নবান্নে নীল-সাদার উপরে পড়তে শুরু করল গেরুয়া রঙের পোঁচ। আর এই দৃশ্য দেখে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে দেখা গেল জয়ের আনন্দের প্রতিচ্ছবি।
নবান্নে এবার গেরুয়া রঙের ছোঁয়া
উল্লেখ্য, বাম সরকারের আমল থেকেই রাজ্যে সরকার চলত রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে। আর সেই ভবনের রং ছিল লাল। যদিও সেটি সরকারের তরফে করা হয়নি, কারণ স্বাধীনতার সময় থেকে রাইটার্সের রং লালই ছিল। যদিও ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সমস্ত প্রশাসনিক কাজ সরিয়ে আনা হয় ১৪ তলার ভবন নবান্নে। আর সেই সময় থেকেই ওই ভবনের রং ছিল নীল-সাদা। তবে শুধু নবান্ন নয়, রাজ্যের প্রায় সমস্ত প্রশাসনিক ভবনেরই রং বদলে হয়ে উঠেছিল নীল-সাদা। এমনকি বাদ যায়নি রাস্তার ডিভাইডারগুলিও। যদিও এই নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানাননি কেউই। কিন্তু এবার সরকার বদলাতেই অন্য ছবি দেখা গেল।
দরপত্র ডাকেনি পূর্ত দফতর
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল, মঙ্গলবার নবান্নের সভাগৃহে বেশ কয়েকটি জায়গায় গেরুয়া রঙের প্রলেপ পড়া নিয়ে নবান্নের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কিছুটা অংশ গেরুয়া করে দেখে নেওয়া হচ্ছে কেমন লাগে দেখতে। তারপর এবিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে গোটা নবান্ন ভবন গেরুয়া রঙেতে রাঙিয়ে দেওয়ার জন্য এখনও পূর্ত দফতর দরপত্র ডাকেনি। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি ভবনের রংও বদল হবে কিনা সেবিষয়ে সরকারি কোনও নির্দেশিকা দেওয়া হয়নি। আর যদি এমন নির্দেশ আসে তাহলে নিউ সেক্রেটারিয়েট থেকে খাদ্যভবন, পঞ্চায়েত থেকে বিকাশ ভবন সবটাই বদল হবে। প্রসঙ্গত, পালাবদলের পরপরই রাইটার্স বিল্ডিংস থেকে শুরু করে নবান্ন সাজিয়ে তোলা হয়েছিল গেরুয়া আলোয়।
Howrah, West Bengal: Speculation over a possible change in the colour scheme of Nabanna and Nabanna Sabhaghar has intensified after the PWD began trial runs with multiple shades, including saffron, on parts of the buildings. Officials clarified that the exercise is experimental,… pic.twitter.com/Sky4EWCkW0
— IANS (@ians_india) June 9, 2026
আরও পড়ুন: কৃষি দুধকুমার, অর্থ স্বপন দাশগুপ্ত! শিল্প কার হাতে? দেখুন শুভেন্দু সরকারের মন্ত্রিসভার লিস্ট
প্রশাসনিক ভবনের এই রং পরিবর্তন নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, জনগণের বিচারে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলে তাদের অগ্রাধিকার এবং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে প্রশাসনিক ভবনের রূপ পরিবর্তন করতেই পারে। এর মধ্যে অন্যায় কিছু নেই। কিন্তু অনেকেই এই উদ্যোগকে নিছক রং পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না বরং তাঁদের মতে, এটা হল রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতীকী বার্তা।










