প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, অবশেষে সরকার পরিবর্তন হতেই প্যারাটিচার (Contractual Teachers) এবং মিড ডে মিলের কর্মীদের ভাতা (Salary Increase) বৃদ্ধির পথে হাঁটতে চলেছে প্রশাসন। কিছুদিন আগে বেসিক পে চালুর দাবি-সহ আর্থিক দিক থেকে নানা বঞ্চনার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সামনে তুলে ধরল স্কুলে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের সংগঠন। আর এবার তাঁদের নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর। সোমবার বিধানসভায় এমনই আশ্বাস দিয়েছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।
বেতন বাড়তে চলেছে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের
২০০২ থেকে রাজ্যের সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তখন থেকেই নামমাত্র বেতনেই কাজ শুরু হয়েছিল। ২০১৮ সালে ৪০শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হয় তাঁদের। এরপর গত ৮ বছরে আর বেতন বৃদ্ধি হয়নি। এদিকে গোটা রাজ্যে প্রায় ৭০০ র বেশি শিক্ষক কাজ করেন চুক্তির ভিত্তিতে। কোনও কোনও স্কুলে, কোনও কোনও বিষয় পড়ানোর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকেরাই ভরসা। স্থায়ী শিক্ষকদের মত কাজ করলেও বেতন মিলছে না কিছুই। তবে এবার সরকার পরিবর্তন হতেই ভাগ্যের চাকা ঘুরল চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের। বেতন বাড়তে চলেছে তাঁদের।
কী বলছেন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী?
গত সোমবার বিধানসভায় শিক্ষা বাজেটের ভাষণে বড় আশ্বাস দিয়েছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। জানা গিয়েছে, বেতন বৃদ্ধির আওতায় আনা হবে স্টেট এডেড কলেজ টিচার্স বা ‘স্যাক্ট’ এবং সমগ্র শিক্ষা মিশনের অধীনে স্কুলে নিযুক্ত বিভিন্ন ধরনের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “স্যাক্ট-দের সাম্মানিক বাড়ানোর ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত আমাকে আগেই জানিয়েছিলেন। তবে যাঁদের যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে, তাঁদেরই বেতন বৃদ্ধি হবে। যাঁদের তা নেই, তাঁদের বিষয়ে আলাদা পদক্ষেপ করবে সরকার।”
মিলেছে অর্থদপ্তরের প্রাথমিক সম্মতি
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, স্যাক্ট-১ এবং স্যাক্ট মিলিয়ে ১২ হাজারেরও বেশি কলেজ শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৫ শতাংশের কম নম্বর রয়েছে প্রায় ৪৫০ জনের। সেক্ষেত্রে অন্য পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে স্কুলশিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিক চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক সহ আরও কিছু চুক্তিভিত্তিক কর্মীর বেতন বৃদ্ধির ফাইল অর্থদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এমনকি এ ব্যাপারে অর্থদপ্তরের প্রাথমিক সম্মতিও মিলেছে। তাই বোঝাই যাচ্ছে যে খুব শীঘ্রই প্যারাটিচার এবং মিড ডে মিলের কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি হতে চলেছে। এছাড়াও স্কুলের শিক্ষকদের বদলি নিয়ে নয়া নীতি আসছে।
আরও পড়ুন: ২১ জুলাই মঞ্চে কল্যাণকে প্রকাশ্যে ধমক মমতার! ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ সাংসদের
স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর দীপক বর্মন জানিয়েছেন, “দিনের পর দিন গ্রামের দিকে শিক্ষা ব্যবস্থা খারাপ হয়ে চলেছে। তাই অনুমোদিত পদের অন্তত ৭০ শতাংশ শিক্ষক না থাকলে সেই স্কুল থেকে কোনো শিক্ষকের বদলির আবেদন গ্রাহ্য করা হবে না। কারণ, সেক্ষেত্রে গ্রামের স্কুলগুলি শিক্ষকের অভাবে আরও খালি হয়ে যাবে।’ সম্প্রতি বদলির আবেদন গ্রহণের ‘উৎসশ্রী’ পোর্টাল খুলেছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। বদলি নিয়ে যখন শিক্ষকদের মধ্যে সামান্য আশা দেখা গিয়েছে ঠিক তখনই প্রশাসনের নতুন নীতি নিয়ে আসায় ঘাবড়ে গিয়েছে অনেকেই।










