গতি বাড়বে ট্রেনের, বাঁচবে সময়! ৩০০টি স্টপেজ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত রেলের

Published:

Indian Railways

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দূরপাল্লার ট্রেনের গতি আরও বাড়াতে এবার বিরাট পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতীয় রেল (Indian Railways)। যাত্রী সংখ্যা কম এবং বাণিজ্যিকভাবে সেরকম লাভজনক নয় এরকম ৩০০ টির বেশি পরীক্ষামূলক স্টপেজ ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রেল। কর্তৃপক্ষের আশা, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে একাধিক প্রিমিয়াম ট্রেনের যাত্রার সময় আনুমানিক ১৫ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এমনকি রেলের সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থা ২০২৬ এর অক্টোবরের মধ্যেই পর্যায়েক্রমে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

কেন তুলে নেওয়া হচ্ছে স্টপেজ?

আসলে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন সাংসদ, বিধায়ক এবং স্থানীয় মানুষের দাবির ভিত্তিতেই দেশের বহু ছোট স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেনের অতিরিক্ত স্টপেজ চালু করা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ছোট শহর এবং গ্রামের যাত্রীদের সরাসরি রেল পরিষেবার সুযোগ করে দেওয়া। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পর সেই স্টপেজগুলির যাত্রী সংখ্যা এবং আয়ের পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সারাই মেলেনি। রেলের বাণিজ্যিক মানদন্ড অনুযায়ী, প্রতিটি স্টপেজে প্রতিদিন একটি করে ট্রেনে ন্যূনতম নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও বহু স্টেশনে সেই লক্ষ্য পর্যন্ত পূরণ হয়নি।

রেল কর্তৃপক্ষের মতে, দ্রুতগতির একটি ট্রেনকে কোনও স্টেশনে থামিয়ে আবার আগের গতিতে তুলতে আনুমানিক ৫ থেকে ৭ মিনিট সময় লাগে। যার ফলে একটি অপ্রয়োজনীয় স্টপেজ বাদ পড়লে সেই সময় সরাসরি সাশ্রয় হবে। কোনও রুটে যদি তিন থেকে চারটি এমন স্টপেজ তুলে দেওয়া হয় তাহলে মোট যাত্রার সময় প্রায় ১৫ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এমনকি শুধু সময় নয়, এর ফলে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির ব্যবহার অনেকটাই কমবে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি স্টপেজ বাদ দিলে একটি ট্রেনে অনেকটাই বিদ্যুৎ এবং ডিজেল সাশ্রয় হয়।

আরও পড়ুন: “আমাদের সময় নষ্ট করবেন না..” সিজেপির মামলায় হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট

তবে রেলের প্রশাসনিক পর্যালোচনায় একাধিক জনপ্রিয় দূরপাল্লার ট্রেন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দিল্লি থেকে চলাচলকারী কয়েকটি প্রিমিয়াম ট্রেন এবং একাধিক বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের স্টপেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্বর্ণ জয়ন্তী রাজধানী এক্সপ্রেস, আজমের শতাব্দী এক্সপ্রেস, অমৃতসর শতাব্দী এক্সপ্রেস, দেরাদুন দুরন্ত এক্সপ্রেস, ভোপাল বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ইত্যাদি।