বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবির পরই ছিন্ন ভিন্ন হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আলাদা হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)দল। এক ভাগ রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে, আরেকভাগ কালীঘাট তৃণমূলে। বিদ্রোহী সাংসদরা আবার অস্তিত্বহীন দল NCPI তে যুক্ত হয়ে বিজেপিকে প্রকাশ্যে সমর্থন করছেন। এমতাবস্থায়, গুটি কয়েক যাঁরা মমতার সঙ্গে রয়েছেন তাঁদের মধ্যেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না! তেমনই একজন কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে নেত্রীর কথায় বেজায় অপমানিত হয়েছিলেন তিনি! আর তারপরেই দলের প্রতি ক্ষোভ জাহির করলেন কল্যাণ। এবার কি কালীঘাট তৃণমূলটাও ছাড়বেন তিনি?
তৃণমূল ছাড়ছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
মঙ্গলবার, কালীঘাট তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশ হয়েছিল তারামণ্ডলের সামনে। সেখানেই মমতার ডাকে জড়ো হয়েছিলেন অসংখ্য কর্মী সমর্থক। ক্যামেরার চোখ যতদূর গেছে ধরা পড়েছে শুধু মাথা আর মাথা। আর সেই জন সমুদ্রের সামনে একে একে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের সদস্যরা। নেত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল সময় অল্প, ফলে প্রত্যেককেই সীমিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য শেষ করতে হবে। তবে সেই নির্দেশে কর্ণপাত করেননি কল্যাণ!
এদিন, নানান প্রসঙ্গ তুলে নিজের বক্তব্য শেষ করতে 22 মিনিট সময় লাগিয়ে দিয়েছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। যার কারণে পরবর্তীতে বক্তব্য রাখতে পারেননি তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র, দোলা সেন, সাগরিকা ঘোষরা। তাতে অবশ্য রেগে যান মমতা। মঞ্চেই কল্যাণের সাথে এক প্রকার তর্কাতর্কি হয় তাঁর। আর তারপরেই নেত্রীর উপর চটে গিয়ে মঞ্চ ছেড়ে সোজা বাড়ি চলে যান তৃণমূল সাংসদ। এরপরই কালীঘাট তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জাহির করেছেন কল্যাণ।
অবশ্যই পড়ুন: গেইল থেকে সূর্যকুমারের রেকর্ড গুঁড়িয়ে বিশ্বের ১ নম্বর ক্রিকেটার হওয়ার সুযোগ বৈভবের হাতে
তৃণমূল সাংসদ বলেছেন, “দলে আমার কোনওদিনই গুরুত্ব ছিল না। সবাই চলে গেলেও আমি ছিলাম। কিন্তু একুশে জুলাইয়ের ভিড় দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। এই কারণেই আবার আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলেন।” এদিন আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন কল্যাণ। বলেন, “কোনও রক্তের সম্পর্কের জন্য উনি মুখ্যমন্ত্রী হননি। উনিই দল তৈরি করেছেন, উনিই শেষ করলেন। সব সময় অভিষেক অভিষেক করলে চলবে না। সব সময় ডেরেক বা অভিষেক যা বলবে সেটা চলবে। আমি কিন্তু আসি বা বাকি 20 জনের মতো নই।” তৃণমূল নেতার এমন মন্তব্যের পর অনেকে মনে করছেন, নেত্রী মমতা যদি নিজে ময়দানে নেমে সমস্যা না মেটান তাহলে হয়তো হাত ছাড়তে পারেন কল্যাণও।










