আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের ছোট্ট ছেলে শুভঙ্কর মুখার্জি। এই বয়সটা বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার বয়স, বাবা মায়ের কাছে আবদার করার বয়স, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার বয়স। কিন্তু সংসারের করুণ অবস্থা, চরম অর্থাভাব তাকে এই ছোট্ট বয়সেই কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ক্লাস সেভেনের এই পড়ুয়ার কাছে এখন জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বাবাকে আবার নিজের পায়ে দাঁড় করানো। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই প্রতিদিন হুইলচেয়ার ঠেলে বাবাকে নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করতে হয় তাকে (Sad Story)।
একটি দুর্ঘটনাই বদলে দিয়েছিল গোটা সংসারের ছবি
শুভঙ্করের বাবা প্রশান্তচন্দ্র মুখার্জি। মা দিপালী মুখার্জি। পাঁচ বছর আগে এক রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অন্ধকারে রাস্তার একটি গর্ত দেখতে না পেয়ে তার মধ্যে পড়ে যান প্রশান্তবাবু। গর্তটিতে স্থানীয় এক বাসিন্দা নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিতেন বলে জানা যায়। সেদিনও গর্তের ভিতরে আগুন জ্বলছিল। সেই আগুনে পড়ে গুরুতরভাবে ঝলসে যায় প্রশান্তবাবুর শরীরের বেশ কিছুটা অংশ, বিশেষ করে দু’টি পা।
পাঁচ বছর ধরে থমকে চিকিৎসা, থমকে সংসার
অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় প্রশান্তবাবুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি বিশেষ মেশিন বসানো না হলে আগের মতো হাঁটাচলা করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না। সেই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু নিম্নআয়ের এই পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। দেখতে দেখতে পাঁচ বছর কেটে গেলেও বাবার চিকিৎসা আর হয়ে ওঠেনি। প্রশান্তবাবুও হুইলচেয়ারে বন্দি হয়ে পড়ায় সংসার চালানো অনেক কঠিন হয়ে যায়। কোনওদিন জোটে ডাল-ভাত, আবার কোনও দিন ফ্যান ভাত। মা বাবা ছাড়া শুভঙ্করের একটি দিদি রয়েছে। দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে, সেখান থেকেও কোনও সাহায্য মেলেনি।
আরও পড়ুন: নেতাজি থেকে উত্তম কুমার, বদলে যাবে এই সব মেট্রো স্টেশনের নাম! রইল তালিকা
পড়াশোনার বয়সে বাবাকে নিয়ে পথে নামে ছেলে
শুভঙ্করের খুব ইচ্ছে হয় মন দিয়ে পড়াশোনা করার। কিন্তু বাস্তবতা তাকে সেই স্বপ্ন থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছে। সংসারে খাবার জোগাড় করার জন্য বাবাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে নিয়ে রোজ মানুষের কাছে সাহায্য চায় সে। তার ছোট্ট মনে একটাই আশা, এভাবেই একদিন ৬০ হাজার টাকা জোগাড় করবে সে। বাবার চিকিৎসা হবে, তিনি আবার হাঁটতে পারবেন। আর সেইদিন আবার শুভঙ্কর নিজের জীবনের সোনালী দিনগুলো ফিরে পাবে। আর বাবাকে নিয়ে পথে বেরোতে হবে না, বরং বই-খাতা নিয়ে নিশ্চিন্তে স্কুলে যেতে পারবে সে।










