অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: সরকারি মালিকানাধীন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (LIC) বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম জীবন বীমা সংস্থা। এই সংস্থার কাছে ২০২৬ সালের বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৭,০০০ কোটি টাকারও বেশি দাবিহীন তহবিল (Unclaimed Amounts) ছিল। অন্যদিকে, আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-এর কাছেও চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৯,০০০ কোটি টাকারও বেশি আনক্লেইমড অ্যামাউন্ট ছিল। এই অর্থ কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে, তা এখন জানালো সরকার।
LIC ও EPFO-এর আনক্লেইমড অ্যামাউন্টের কী হবে?
কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী বুধবার লোকসভায় একটি লিখিত উত্তরে এলআইসি ও ইপিএফও-এর দাবিহীন তহবিল নিয়ে সরকারের অভিপ্রায় প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে, কোনো দাবিহীন তহবিল সরকার অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবে না। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুন জারি করা ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (IRDAI)-র মাস্টার সার্কুলারে দাবিহীন তহবিল গুলির জন্য ব্যবস্থা করে রাখা আছে। এতে উল্লেখ করা আছে যে, ফান্ডগুলি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে দাবিহীন হয়ে পড়ে থাকলে, সেগুলিকে সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার ফান্ড (SCWF)-এ স্থানান্তর করতে হবে। এই ধরনের অতিরিক্ত অর্থ অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার কোনো নিয়ম নেই।
পঙ্কজ চৌধুরীর বলেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এলআইসি-র কাছে ৭,৩১৮.৫০ কোটি টাকার দাবিহীন অর্থ ছিল। এর মধ্যে ৫,৫৬৪.৫৫ কোটি টাকা পলিসিধারীদের দেওয়া অর্থ এবং ১,৭৫৩.৯৫ কোটি টাকা সেই দাবিহীন অর্থের ওপর অর্জিত সুদ। এর পাশাপাশি, সরকার জানিয়েছে যে ইপিএফও-তে কোনো দাবিহীন অ্যাকাউন্ট নেই, যদিও অনেক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় রয়েছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় ইপিএফ অ্যাকাউন্টগুলিতে ৯,৩৩০.৫৬ কোটি টাকা রয়েছে।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া এবং এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন এই ফান্ডের অধিকারীদের খুঁজে বের করার জন্য সবরকম প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এলআইসি তার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পলিসিধারীদের সাথে যোগাযোগ করে দাবি না করা তহবিলের দাবিদারদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এছাড়া, গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য চিঠি, এসএমএস (SMS)-এর পাশাপাশি বীমা সখী, স্থানীয় এজেন্ট এবং ক্রেডিট ব্যুরো এজেন্সিগুলিও ব্যবহার করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ জানুন ধর্মেন্দ্র প্রধানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মোট সম্পত্তি কত
অন্যদিকে, ইপিএফও-এর ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলোকে তাদের কেওয়াইসি (KYC) স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। ১,০০০ টাকা বা তার কম ব্যালেন্সযুক্ত আধার-ভেরিফায়েড নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলোর স্বয়ংক্রিয় নিষ্পত্তির জন্য একটি পাইলট প্রজেক্টও অনুমোদন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে, কোনো দাবি বা নথিপত্র ছাড়াই আধার-লিংকড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে সরাসরি তহবিল জমা হয়ে যাবে।










