নেতাজিকে অপমানের প্রতিবাদে গঙ্গাসাগর থেকে দার্জিলিং পদযাত্রা ৬৬-র অতীন হালদারের

Published:

Atin Halder Protest Subhas Chandra Bose

সহেলি মিত্র, কলকাতা: জেদ হয়তো একেই বলে! কেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে (Subhas Chandra Bose) অপমান করা হবে? প্রতিবাদে রাস্তায় নামলেন বৃদ্ধ। সম্বল নেতাজির ছবি এবং জাতীয় পতাকা। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। একটি ছবি, একটি জাতীয় পতাকা আর অদম্য জেদকে সঙ্গী করে গঙ্গাসাগর থেকে দার্জিলিংয়ের পথে হেঁটে চলেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজের বৃদ্ধ অতীন হালদার। প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের এই পদযাত্রার ২০তম দিনে তিনি পৌঁছেছেন মুর্শিদাবাদের সুতি থানার আহিরনে।

নেতাজিকে অপমানের প্রতিবাদে গঙ্গাসাগর থেকে দার্জিলিং পদযাত্রা

রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিদিন ২৫-৩০ কিলোমিটার হাঁটছেন তিনি। গলায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাঁধানো ছবি, মাথায় গান্ধী টুপি, হাতে জাতীয় পতাকা—রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলছে তাঁর যাত্রা। কোনও রেকর্ড বা পুরস্কারের জন্য নয়, নেতাজিকে নিয়ে করা কুরুচিকর মন্তব্যের প্রতিবাদেই তাঁর এই নীরব পদযাত্রা। পায়ে সাধারণ চটি, পিঠে ছোট ব্যাগ ও হাতে লাঠি নিয়েই পথ চলছেন তিনি।

আর পড়ুনঃ দুর্গাপুজোর আগেই বাড়ছে মদের দাম, ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর নয়া রেট

জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে প্রচণ্ড জ্বরে দু’দিন হোটেলে বিশ্রাম নিতে হলেও সুস্থ হতেই ফের রাস্তায় নেমেছেন অতীন। তিনি মনে করেন, নেতাজি শুধু একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী নন, তিনি আবেগ। তাঁকে অপমান মানে গোটা দেশকে অপমান। অতীনবাবু জানিয়েছেন, ‘নেতাজির অসম্মান সহ্য করা হবে না। নেতাজির আদর্শে দেশ গড়া হবে।’

আগেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি

অতীন হালদার বলেন, “নেতাজি আমার কাছে ভগবানের মতো। যে মানুষটা দেশের জন্য নিজের সব সুখ বিসর্জন দিলেন, তাঁকে নিয়ে নোংরা কথা বলবে আর আমরা চুপ করে থাকব? আমার এই হাঁটাই আমার প্রতিবাদ, আমার শ্রদ্ধা।” অনেকজন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, এই ৬৬ বছর বয়েসে সারাদিন শুধু কয়েক কাপ চা আর জল খেয়ে অতীন বাবু হেঁটে চলেছেন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে। রাতে আহার বলতে মাত্র ২/৩ টে রুটি সব্জিতেই চলে যায়। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও ২ বছর আগে উনি বজবজ থেকে হেঁটে জালিওনাবাগে (প্রায় ১৯০০ কিমি ) গেছেন। এমন মানুষকে সত্যিই স্যালুট জানানো উচিৎ।