প্রতিটি গ্রামে বসবে ডিজিটাল লাইব্রেরি, কনফারেন্স রুম! বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

dg lybry (1)

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: গ্রাম্য জীবনের উন্নয়ন ঘটাতে এবার গ্রামের মানুষের শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং সামাজিক পরিকাঠামোর উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। গ্রামে সরকারি কাজকর্মের জন্য পঞ্চায়েত ভবন নির্মাণ করা, এই উন্নয়নেরই একটি অন্যতম ধাপ। সরকারের লক্ষ্য, শুধু সরকারি কাজের কেন্দ্র গড়ে তোলা নয়। রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য হল, পঞ্চায়েত ভবনগুলিকে এমন ভাবে গড়ে তোলা, যাতে গ্রামের মানুষও সেখান থেকে নিজেদের প্রয়োজন নিবারণ করতে পারে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ডিজিটাল লাইব্রেরি (Digital Library) বানানোর কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

ডিজিটাল লাইব্রেরিতে পড়াশোনার সুযোগ

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে গ্রাম পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড স্তরে ডিজিটাল লাইব্রেরি তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই ৪৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১,০০০টি বহুমুখী পঞ্চায়েত ভবন তৈরির জন্য প্রায় ৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ডিজিটাল লাইব্রেরিতে শুধু বই নয় তার পাশাপাশি থাকবে ই-বুক এবং অনলাইনে পড়াশোনা করার বিভিন্ন উপকরণ। এছাড়াও এখানে কম্পিটিটিভ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্যও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

গ্রাম সচিবালয়ে সাধারণ মানুষের জায়গা

যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্য, ডিজিটাল যুগ শহর ও গ্রামের দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। তাঁর কথায়, শহরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজের জন্য সচিবালয় থাকলেও গ্রামে এমন কিছু নেই। তাই গ্রামের মানুষের জন্যও এমন একটি পরিকাঠামো প্রয়োজন। সেই ভাবনা থেকেই গ্রাম সচিবালয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিক নকশায় গ্রাম প্রধানের কাজের জন্য ঘর থাকলেও গ্রামবাসীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা ছিল না। পরে সেখানে কনফারেন্স রুম এবং ডিজিটাল লাইব্রেরি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর মতে, গ্রাম শিক্ষিত ও উন্নত না হলে দেশের উন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: কেন পরিবারের সদস্যদের তথ্য? অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সামনে এল বড় তথ্য

উত্তরপ্রদেশ সরকার পঞ্চায়েত ভবনকে গ্রামের প্রত্যেকটি মানুষের উপযোগী করে তোলার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে পঞ্চায়েত উৎসব ভবন ব্যবহার করা যাবে। একইসঙ্গে ডিজিটাল লাইব্রেরির আসবাব, বই, আইটি সরঞ্জাম ও ই-কনটেন্টের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম নীতি তৈরি করা হচ্ছে। লাইব্রেরি ও ভবনগুলির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, সরঞ্জামের ব্যবহার, পরিদর্শন এবং নাগরিকদের মতামতের উপর নজর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে যোগী সরকার। ফলে পঞ্চায়েতগুলি ধীরে ধীরে শুধু প্রশাসনিক জায়গা নয়, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠবে।