৫০০ বছরের মন্দির দখলের অভিযোগ পূর্ব বর্ধমানে, সুবিচারের আশায় আদালতে সেবায়েত

Published:

Purba Bardhaman

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মন্দিরের সেবাইতকে মেরে বের করে দিয়ে এবার ৫০০ বছরের পুরোনো পূর্ব বর্ধমানে (Purba Bardhaman) অবস্থিত প্রাচীন ‘শ্রী শ্রী গৌর গদাধর’ মন্দির (Gaur Gadadhar Temple) দখলের অভিযোগ উঠল কয়েকজনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, কোটি টাকার সামগ্রী লুটের অভিযোগও উঠেছে। আর সেই সকল অভিযোগ নিয়ে সুবিচারের আশায় এবার আদালতের দ্বারস্থ হলেন দীর্ঘদিনের সেবায়েত নিত্যানন্দ ব্রহ্মচারী। খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে এলাকায়।

সেবাইতকে মেরে মন্দিরের সম্পদ লুটপাট

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর, পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড়ে নাদনঘাট থানার চাপাহাটি নিমতলা বাজার এলাকায় অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন ‘শ্রী শ্রী গৌর গদাধর’ মন্দিরের একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছিল যেখানে দেখা গিয়েছিল মন্দিরের সেবাইতকে মেরে বের করে দিয়ে কয়েক জন গেটের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে টাকাপয়সা বার করে গুনছে। এদিকে ওই ঘটনার পর থেকে ওই সেবাইত মন্দিরে প্রবেশ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ। তিনি এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই ইমেলের মাধ্যমে নাদনঘাট থানায় অভিযোগ জমা করেছে। এছাড়াও এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকেও পুলিশের কাছে জমা পড়েছে মাস পিটিশন। এরপরই তদন্তে নামল নাদনঘাট থানার পুলিশ।

আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন সেবায়েত

মন্দিরের দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরের সেবায়েত নিত্যানন্দ ব্রহ্মচারীর অভিযোগ, মন্দিরের ঘরের তালা ভেঙে নগদ লক্ষাধিক টাকা, আমেরিকান ডলার, ইউরো, ১০ থেকে ১৫ ভরি সোনার গয়না, গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র এবং কালনা আদালতের মামলার রায় সংক্রান্ত জরুরি নথিপত্র লুট করা হয়েছে। তাঁর দাবি, “প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় চুরির পরে মন্দিরে ঢুকতে পারছি না। বিচার চেয়ে আইনের দ্বারস্থ হয়েছি।” অন্যদিকে স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানিয়ে কোনও সুরাহা না হওয়ায়, শেষ পর্যন্ত কালনা মহকুমা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নিত্যানন্দ ব্রহ্মচারী। এখন দেখার এই ঘটনার পরিণতি কোন দিকে মোড় নেয়।

আরও পড়ুন: ইনস্টাগ্রামে প্রেম! স্বামী, দুই সন্তান ও চাকরি ছেড়ে ১৮-র যুবকের সঙ্গে পালাল ঝাড়গ্রামের গৃহবধূ

অভিযোগকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুততার সঙ্গে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি, প্রাচীন এই মন্দিরের দখল ও পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে কালীঘাট মন্দিরে দেবীর গয়না এবং গচ্ছিত সম্পদ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ১৯৮০ সাল থেকে মূল্যবান সম্পদ গচ্ছিত লকারের চাবি পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে কী পরিস্থিতিতে রয়েছে ধন-সম্পদ, আদৌ তা ঠিকঠাক রয়েছে কি না এমনই সব প্রশ্ন তুলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।