স্বামীর বয়স ৪৫, স্ত্রীর ১০৬! ১৪ বছর ধরে ভোগান্তির শিকার পশ্চিম মেদিনীপুরের মহিলা

Published:

Aadhaar Card

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: স্বামীর থেকে স্ত্রী ৬১ বছর বড়, আধার কার্ডে (Aadhaar Card) এমনই চিত্র ধরা পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) চন্দ্রকোনা ব্লকে। অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে তৈরি এই আধার কার্ড, শুরু থেকেই বয়সের জায়গায় ভুল তথ্য (Aadhaar Card Wrong Info) ছিল, এই নিয়ে সরকারি দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলো কোনো রকম কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেই জন্য বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধার আবেদন করতে পারছেন না অভিযোগকারী। অবশেষে বিজেপির দারস্ত হলেন ওই মহিলা।

বয়স ৩৫ এর জায়গায় দেখাচ্ছে ১০৬

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের ডিঙাল গ্রামের বাসিন্দা হলেন কৃষ্ণা পাল। তাঁর স্বামী অষ্টম পালের বয়স ৪৫ বছর। কিন্তু কৃষ্ণা দেবীর আধার কার্ড নিয়ে শুরু হয়েছে নয়া বিভ্রাট। জানা গিয়েছে কৃষ্ণা দেবীর বয়স যেখানে ৩৫ সেখানে আধার কার্ডে তাঁর বয়স ১০৬ বছর করা আছে। অর্থাৎ আধার কার্ড অনুযায়ী তাঁর জন্ম তারিখ ১৯২০ সাল। আর সেই কারণেই বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত তিনি। আধার কার্ডে বয়সের এমন ত্রুটির সংশোধনের জন্য কৃষ্ণা দেবী প্রশাসনের দফতরে দফতরে ঘুরছেন। কিন্তু কোথাও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।

কী বলছেন কৃষ্ণাদেবী?

কৃষ্ণাদেবী আধার কার্ডে বয়সের ত্রুটিগত সমস্যা নিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, “গত ১৪ বছর ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আধার সেন্টার ও ব্লক অফিস মহকুমা অফিস, এমনকি খড়গপুরের বিধায়কের আধার সেন্টারেও তিনি গিয়েছিলেন স্বামীর সঙ্গে। কিন্তু তাতেও কোনও সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে একাধিক জনদরদী সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছি।” তবে এবার মিলল আশার আলো। ক্ষমতার রদবদল হতেই চন্দ্রকোনা বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত দোলইকে আধার ইস্যুর বিষয়টি জানাতেই দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘দুর্গাপুজোয় প্যালেস্টাইন থিমে বইয়ের স্টল’, বিতর্কের মাঝেই বড় ঘোষণা দীপ্সিতা ধরের

জানা গিয়েছে, গতকাল, শনিবার সকালে মনোহরপুরে জন কল্যাণ শিবিরে চন্দ্রকোনা বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত দোলই এর সঙ্গে দেখা করেছিলেন কৃষ্ণা পাল এবং অষ্টম পাল। বিধায়ক সমস্ত বিষয়টি শুনে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। ওই দম্পতি বিধায়কের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়েছেন। তাঁদের ধারণা ১৪ বছরের সমস্যা নতুন সরকারের আমলে হয়তো সমাধান হতে পারে।