সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নির্বাচনে হারের পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে একাধিক থানায় বিভিন্ন অভিযোগের দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। সম্প্রতি তাঁর সেবাশ্রয় শিবিরের দুর্নীতি নিয়ে করা হয় অভিযোগ। তবে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, যদি একান্তই চিকিৎসা করতে হয় তাহলে এসএসকেএম থেকে আগে দেখাতে হবে। তারপর ডাক্তারের রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার পর পর্যবেক্ষণ করা হবে। কিন্তু সেই রিপোর্টেই এবার একাধিক গরমিল।
অভিষেকের ডাক্তারের রিপোর্টে নেই কোনও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ঠিকানা
চোখের চিকিৎসা করানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা যেতে হয় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই কারণে অভিষেকের আইনজীবী আদালতে তাঁর বিদেশে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে বিচারপতি তাঁকে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সূত্রেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মামলা চলাকালীন হাইকোর্টে মেডিক্যাল ডকুমেন্ট জমা দেন। কিন্তু অবাক করার বিষয়, ওই ডকুমেন্টে চিকিৎসকের কোনও রেজিস্ট্রেশন নম্বরই নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও নাকি ডাক্তার তৃণমূল সাংসদকে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেই উল্লেখ করেন। এখানেই তৈরি হচ্ছে রহস্য।
প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং কোনও ঠিকানা উল্লেখ নেই। কিন্তু যেহেতু চিকিৎসা এবং আইনত মানদন্ড অনুযায়ী, একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের যে কোনও প্রেসক্রিপশন কিংবা মেডিক্যাল রিপোর্টে তাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ঠিকানা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিষেকের দেখানো ডকুমেন্টে চিকিৎসকের কোনও তথ্য না থাকায় এই ডকুমেন্ট নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। এমনটাই অভিযোগ জানিয়েছেন বাগুইহাটির বাসিন্দা রাজীব সরকার। এমনকি তিনি পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিলের কাছে এই তথ্য তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: বারাসাতের পুলিশ ফাঁড়িতে একের পর এক বিস্ফোরণ, আতঙ্কে হুড়োহুড়ি আমজনতার
প্রসঙ্গত উল্লেখ করে রাখি, অভিষেকের বিদেশে যাওয়ার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই উল্লেখ করেছিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তৃণমূল সাংসদকে আপাতত এসএসকেএম হাসপাতালে চক্ষু বিভাগে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করার কথাও জানান তিনি। সেখানে একান্ত প্রয়োজন হলেই অভিষেকের বিদেশে যাওয়ার বিষয় খতিয়ে দেখা হবে আদালতের তরফ থেকে, এমনটাই জানানো হয়েছিল। তবে তার আগে জমা দিতে হত ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন। আর সেখানেই গরমিল।










