সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভোটে ভরাডুবির পর একেবারে শিরেসংক্রান্তি অবস্থা তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)! বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক থানায় দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। কোনও সময় সিআইডি দফতরে হাজিরা দিচ্ছেন, আবার কোনও সময় ইডির দফতরে। এমনকি গাড়িতে নিরাপত্তারক্ষী ঝোলা নিয়েও করা হয় অভিযোগ। তবে তার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হল তৃণমূল সাংসদের নেতৃত্বে চালু হওয়া সেবাশ্রয় শিবিরের দুর্নীতি। এই ক্যাম্প নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। আর সেই সূত্র ধরে ফের আবার নতুন করে অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপির নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি।
সেবাশ্রয় ঘিরে নতুন করে অভিযোগ
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাস থানায় অভিযোগ করেন, সেবাশ্রয় প্রকল্পে ব্যবহার করা ওষুধ কেনা এবং বণ্টনে ব্যাপক দুর্নীতির পরিসংখ্যান রয়েছে। এই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়সহ একাধিক তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নেতার নাম উঠে আসে। গত ১০ জুন সরিষার হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেছিলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। এমনকি পারুলিয়া থানার পুলিশ উদ্ধার ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করেছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি। বিজেপি নেতার অভিযোগ, এই সেবাশ্রয় শিবিরে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।
তাঁর দাবি, উদ্ধার হওয়া ওই সমস্ত ওষুধের সবটাই সেবাশ্রয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু কেন এত কোটি কোটি টাকার ওষুধ মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত কোনও তথ্য এখনও পর্যন্ত সামনে আসেনি। এমনকি সরকারি ও জনকল্যাণমূলক চিকিৎসা শিবিরের নাম করে খোলা বাজার থেকে ওই বিপুল পরিমাণ ওষুধ কেনা হয়েছিল কিনা বা এর পিছনে আরও কোনও বড় আর্থিক অনিয়ম রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ববি। দ্রুত এফআইআর দায়ের করে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছে বিজেপি নেতার তরফ থেকে।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম রিজেক্ট হলেও চিন্তা নেই, কীভাবে পাবেন ৩০০০ টাকা? জানুন
যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কোনও সদুত্তর আসেনি, বা তৃণমূল কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। কিন্তু বিজেপির নেতার বক্তব্য, এই ওষুধগুলি কারা মাটিতে চাপা দিয়েছিল তা খুঁজে বার করতে হবে। সেক্ষেত্রে সেবাশ্রয়ের লোকজন যুক্ত রয়েছে। সরকার পরিবর্তন হতেই এমন কি হল যে কোটি কোটি টাকার ওষুধ মাটিতে চাপা দিতে হল? যদিও বেশ কিছু ওষুধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। এমনকি ওই মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধগুলি রোগীদেরকে দেওয়া হত বলে অভিযোগ করেন বিজেপির নেতা। পাশাপাশি যে ওষুধের বাজারদর ১০ টাকা তার এমআরপি লেখা থাকত ১২০ টাকা! গরিবদের লুট করেই সেবাশ্রয় চলত। এই সমস্ত অভিযোগ জানিয়েই দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিজিৎ দাস।










