প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পুজো বন্ধ হচ্ছে না বাগবাজার সর্বজনীনে (Bagbazar Sarbojanin Durga Puja), বড় ঘোষণা করলেন পুজো ম্যানেজিং কমিটির সদস্য তরুণ দেবনাথ। রাজ্যে ক্ষমতার রদবদলের পর বিজেপির এবার প্রথম দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026)। তাই স্বাভাবিকভাবেই চরম উত্তেজনা শুরু হয়েছে জেলায় জেলায়। এমতাবস্থায় কলকাতার ১০৮ বছরের প্রাচীন বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি নিয়ে চলছে জোর দ্বন্দ্ব। রীতিমত সেই সংঘাতের জল গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court)।
পুজো নিয়ে চলছিল তুমুল শোরগোল
কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সম্প্রতি দুই পর্যবেক্ষকের নজরদারিতে সাধারণ সম্পাদক এবং চারজন সদস্য নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়। মোট ভোটার ছিল ৭৭ জন। তার মধ্যে ৬৬ জন ভোট দিয়েছেন। বাকিরা ভোট দেননি। সাধারণ সম্পাদকের হয়ে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী ৩৩টি করে ভোট পেয়েছেন। এদিকে আরেক প্রার্থী গৌতম নিয়োগী হাই কোর্ট নিযুক্ত পর্যবেক্ষককে পক্ষপাতদুষ্ট বলেই অভিযোগ করেছেন। আর এই ঝামেলা এবং টানাপোড়েনের ফলে স্বাভাবিকভাবেই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। যদিও এবার পুজো বন্ধের জল্পনার মাঝেই বড় আপডেট দিলেন পুজো ম্যানেজিং কমিটির সদস্য তরুণ দেবনাথ।
পুজো হবে বলে জানিয়ে দিল কমিটি
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, তরুণ দেবনাথ সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, আগামীকাল কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের কপি পেলেই গঠিত হবে ১১ সদস্যের নতুন কমিটি। এবার পুজো হবেই। পুজো বন্ধ হচ্ছে না বাগবাজার সর্বজনীনে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই আনন্দের হাসি ফুটল এলাকাবাসীর মনে। কারণ প্রতিবছর এইসময় মণ্ডপের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ হয়ে যায়। কিন্তু এবার মাঠ ফাঁকা। সিমেন্টের যে প্ল্যাটফর্মের ওপর অন্যান্যবার মণ্ডপ গড়ে ওঠে সেই প্ল্যাটফর্ম আজও খালি। এখন সকলের নজর আগামীকালের হাইকোর্টের রায়ের কপি নিয়ে।
আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন ঘিরে বাড়ছে জল্পনা, প্রার্থী দিতে পারবে না তৃণমূল?
উল্লেখ্য, ১৯১৯ সালে প্রথম এই পুজো শুরু হয়েছিল। সেই সময় ৫৫ বাগবাজার স্ট্রিটে নেবুবাগান বারোয়ারি দুর্গাপূজা নামে পরিচিত ছিল পুজোটি। সমাজকর্মী নগেন্দ্রনাথ ঘোষালের সাহায্য নিয়ে বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গোৎসব নামে কমিটি তৈরি হয়েছ। ১৯৩০ সালে দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সভাপতি হন। ১৯৩৮-৩৯ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুও এই পুজো কমিটির সভাপতি ছিলেন। তারপর তৃণমূলের আমলে নেতা-মন্ত্রীরা এই পুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।










