সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পুজোর আগেই তৎপর প্রশাসন। গতকালই তালা ঝুলেছে শহরের ৪০টি রেস্তোরাঁয়। এমনকি দুর্গাপুজো উপলক্ষে একাধিক ফতোয়া জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা এবং বৈধ লাইসেন্স না থাকার জেরে এবার শহর কলকাতার ৯১৯টি গেস্ট হাউস বন্ধের নোটিশ পাঠাল কলকাতা পৌরনিগম। দিন কয়েক কাকে কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনার পর গেস্ট হাউসগুলি পরিদর্শন করতে গিয়ে চক্ষু ছানাবড়া হয় আধিকারিকদের! তাই পুজোর আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সেগুলিতে তালা ঝোলানোর সিদ্ধান্ত নিল কেএমসি (Kolkata Municipal Corporation)।
পুজোর আগেই বন্ধ শহরের ৯১৯টি গেস্ট হাউস
হাতেগোনা আর এক মাসের কয়েকটা দিন বেশি বাকি পুজোর। ইতিমধ্যেই শপিং শুরু করেছে বাঙালি। তবে পুজোয় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর রাজ্য প্রশাসন। বর্তমানে শহর কলকাতায় মোট ৩৭০০ গেস্ট হাউস রয়েছে। তবে বীরভূমের তারাপীঠের পাশাপাশি কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পর প্রত্যেকটি গেস্ট হাউস খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয় কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। দমকল, পৌরনিগমের যৌথ দল ইতিমধ্যেই শহরের ৯৬০টি গেস্ট হাউস পরিদর্শন করেছে, যার মধ্যে ৯১৯টিতে ত্রুটি ধরা পড়ায় সেগুলি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, যে গেস্ট হাউসগুলিকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, সেগুলিতে কিছু ত্রুটি লক্ষ্য করা গিয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। এমনকি বেশ কিছু হোটেল বর্তমানে বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই রমরমিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছিল বলেই জানান পুর কমিশনার। তাই উৎসবের মরশুমে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই গেস্ট হাউসগুলি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শর্তাবলী মেনে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ও বৈধ লাইসেন্স দেখাতে পারলে সেগুলিকে আবার খোলার অনুমতি দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গতকালই শহরের বেশ কিছু রেস্তোরাঁ এবং ছোট-বড় দোকানে হানা দিয়েছিল ফুড সেফটি ডিপার্টমেন্ট। সেই সূত্রে শিমলা বিরিয়ানি থেকে শুরু করে আরসালান সহ শহরের মোট ৪০টি রেস্তোরাঁ ও হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোথাও মিলেছে পচা মাংস, কোথাও বা খাবারের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রং, এমনকি কোথাও আনহাইজেনিক ভাবেই চলছে রান্নাবান্না। তবে যেহেতু সামনেই দুর্গাপুজো, তাই শহর কলকাতায় ঘুরতে আসা পর্যটকের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখেই এবার বড়সড় পদক্ষেপ কলকাতা পুরসভার।










