অনন্যা সরকার,বারাসাত: জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যার কাটার পর নতুন NH 12 (পুরোনো NH 34)-এর বারাসাত থেকে বড়জাগুলী পর্যন্ত ১৭.৬ কিলোমিটার অংশে ৪-লেন সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ আটকে থাকার পর অবশেষে ২০২৪ সালে মার্চ মাসে কেন্দ্র সরকার নতুন করে কাজের বরাত দেয়। সেবছর অগাস্ট মাস থেকেই পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। এই নতুন করিডোরে থাকবে আন্ডারপাস, ইন্টারচেঞ্জ ও সার্ভিস লেন। বহু প্রতীক্ষিত ঐ প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি যাতায়াতের সময় প্রায় দু’ঘণ্টা কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবশেষে ৪-লেন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে
বারাসাতের সন্তোষপুর মোড় থেকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বড়জাগুলীর রাজবেরিয়া মোড় পর্যন্ত এই ১৭.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাকে অত্যাধুনিক ৪-লেন সারফেস করিডোরে রূপান্তর করতে কেন্দ্র ও রাজ্য একত্রে উদ্যোগী হয়েছে। নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য এই পথে নির্মাণ করা হবে ৮টি নতুন ওভারব্রিজ, ১১টি আন্ডারপাস ও দুইদিকে ৮.২ কিলোমিটারের সার্ভিস রোড, যা এই করিডোরকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক, দ্রুত ও নিরাপদ করে তুলবে।
আন্ডারপাস মূলত স্থানীয় সড়ক ও প্রধান হাইওয়ের মধ্যে সংঘর্ষ কমায়, ফলে যানবাহন এবং পথচারীরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন। অন্যদিকে, ইন্টারচেঞ্জ ট্রাফিকের গতিকে আরও সংগঠিত করে, এর ফলে একাধিক দিক থেকে গাড়ি সহজে আসা যাওয়া করতে পারে কোনো বাধা সৃষ্টি না করেই। আর সার্ভিস লেন ছোট গাড়ি, স্থানীয় যানবাহন এবং এলাকার মানুষদের দৈনন্দিন যাতায়াতকে ভারী যানবাহন দ্বারা সৃষ্ট দ্রুতগতির ট্রাফিক থেকে আলাদা রাখে। এতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও কমে এবং যানজটও অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
আরও পড়ুনঃ ট্রেনের মতো সুবিধা! চালু হল আসানসোল-শিলিগুড়ি প্রিমিয়াম বাসে, জানুন রুট ও সময়সূচি
এই করিডোরটি কলকাতা-শিলিগুড়ি সংযোগের মাঝে একটি বড় অংশ। তাই এই রাস্তার উন্নয়নের ফলে শুধুমাত্র স্থানীয় অধিবাসীদেরই নয়, উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে যাওয়া দূরপাল্লার যানবাহনগুলিরও সুবিধা হবে। বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাস চলাচলে গতি আসবে। একই সাথে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর বারাসাত থেকে বড়জাগুলি রুটে যাতায়াত করা আরও মসৃণ হবে। বহুদিন আটকে থাকা এই অংশের কাজ শুরু হওয়াতে খুশি নিত্যযাত্রী ও স্থানীয়রা। এই প্রকল্পের অগ্রগতির স্বার্থে বর্তমানে অবৈধভাবে দখল করা জমিতে উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হচ্ছে।










