সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলার খোলনলচে বদলে যাচ্ছে। একের পর এক কাজ, সিদ্ধান্ত নিয়েই চলেছে সরকার। এবারেও যার ব্যতিক্রম ঘটল না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শীঘ্রই কলকাতা শহর পেতে চলেছে আরও একটি এয়ারপোর্ট। আর এর জন্য সার্ভে অবধি শুরু হয়েছে বলে খবর। নিশ্চয়ই ভাবছেন কোথায়? তাহলে জানিয়ে রাখি, সরকারের তরফে বেহালা বিমানবন্দরকে (Behala Airport) পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
ফের চালু হচ্ছে বেহালা বিমানবন্দর?
জানা গিয়েছে, সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিনের অবহেলার পর অবশেষে আশার আলো দেখা দিয়েছে। এটি হবে কলকাতার দ্বিতীয় বিমানবন্দর। সংস্কার কাজের সমীক্ষা শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। এ বিষয়ে রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রককে একটি চিঠিও লিখেছেন। বেহালা বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করা যাবে কিনা, তা নির্ধারণের প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার ছাড়া এখানে বিমান চলাচল প্রায় নেই বললেই চলে। বিমানবন্দরটিকে একটি ফ্লাইট প্রশিক্ষণ স্কুল হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বারবার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু সেই প্রচেষ্টাগুলো বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
বেহালা বিমানবন্দরটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত হয়েছিল
কলকাতার কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমানবন্দরটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত হয়েছিল। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ১.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়ে সহ এই বিমানবন্দরটিতে ইতিমধ্যেই চার্টার্ড ফ্লাইট এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বিমানবন্দরটির ড্রোন সমীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। সূত্রের খবর, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের কাছেও চিঠি লিখছেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকার রাজ্যের শিল্প খাতকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ব্যান’ শেষে সমুদ্রে পাড়ি দিঘার মৎস্যজীবীদের, টাটকা ইলিশের আশায় দিন গুণছে বাঙালি
এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, যথাযথ জমি চিহ্নিতকরণের অভাব, সীমানা প্রাচীরের অনুপস্থিতি এবং অবৈধ দখলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর কাজ বছরের পর বছর ধরে আটকে ছিল। যেহেতু বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য একটি সম্পূর্ণ সীমানা প্রাচীর থাকা বাধ্যতামূলক, তাই এই বিষয়টি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যদিও আগামী দিনে সেইসকল বাধা কাটিয়ে অবশেষে সংস্কার এবং সমস্ত আধুনিকীকরণের কাজ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। এটি তৈরি হলে কলকাতাকে বাগডোগরা, কোচবিহার এবং অন্ডাল-এর মতো গন্তব্যের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারবে।










