‘ব্যান’ শেষে সমুদ্রে পাড়ি দিঘার মৎস্যজীবীদের, টাটকা ইলিশের আশায় দিন গুণছে বাঙালি

Published:

Fishermen at sea

অনন্যা সরকার, কলকাতা: গত রবিবার (১৪ জুন) সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের ওপর থাকা ৬১ দিনের ব্যান পিরিয়ড শেষ হয়েছে। তাই সোমবার থেকেই ইলিশ শিকারে সাগরে পাড়ি জমিয়েছেন দিঘা (Digha) উপকূলের মৎসশিকারীরা (Fishermen)। দীর্ঘ দু’মাসের নীরবতার পর আবার উপকূলের মৎসবন্দরগুলো স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে। এই মরশুমেও নৌকা ও ট্রলার-লঞ্চ মিলিয়ে প্রায় ২,০০০-এরও বেশি মাছশিকারী যান সমুদ্রে নামবে। ফলে ইলিশপ্রেমীরা টাটকা ইলিশের (Hilsa) অপেক্ষায় এখন থেকেই দিন গুনছেন। 

ইলিশের সন্ধানে মৎস্যজীবীরা পাড়ি দিয়েছেন সমুদ্রে

১৫ জুন রাত ১২টা থেকে কাঁথির পেটুয়াঘাট, দীঘা, শংকরপুর, শৌলা-এর মতো মৎস্যবন্দরগুলি থেকে ট্রলার-লঞ্চ, টু-সিলিন্ডার বোট, ফোর-সিলিন্ডার বোটগুলি নিয়ে মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে নেমেছেন ইলিশ শিকারের আশায়। জেটিঘাটগুলো এখন মানুষের আনাগোনায় গমগম করছে। সোমবার অভিযানে নামার আগে শুক্র ও শনিবার ট্রেলার-লঞ্চগুলির কেবিনে ঘটা করে পালন করা হয়েছে মা গঙ্গার পূজার্চনা। নতুন রঙের প্রলেপ পড়েছে ট্রলার, বোটগুলোর গায়ে। তার পাশাপাশি খাবার, ওষুধপত্র, পানীয়জল, বরফ, তেল – সবকিছু মজুতের কাজও শেষ করে অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন মৎস্যজীবীরা। ট্রলার লঞ্চের ইঞ্জিন দেখে নেওয়া, মাছ ধরার জালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা সুরক্ষার জন্য লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা শেষ করে দিন ফুরোনোর অপেক্ষা করছিলেন তারা। 

জানিয়ে রাখি, প্রতিবছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত সময়কালটি মাছেদের প্রজননের সময়। তাই মৎস সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে এই সময়টা সমুদ্রে মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বা ব্যান থাকে। ব্যান উঠতেই জীবিকা নির্বাহ করতে সমুদ্রে পাড়ি জমান মৎস্যশিকারীরা। জালে ইলিশ ধরা পড়লে সংসার চালানোর রসদ পান তারা। অন্যদিকে, ট্রলার-লঞ্চের মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের ঘরেও ঢোকে লাভের অঙ্ক।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের একটি বড় অংশের মানুষ মৎস্যশিকার করেই জীবনযাপন করেন। শঙ্করপুর, দীঘা, শৌলা, কাঁথির পেটুয়াঘাট সহ বিভিন্ন মৎস্যবন্দর থেকে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার মৎস্যজীবী বিপদকে সঙ্গী করে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যান। জেলা সহ মৎস্য-অধিকর্তা (সামুদ্রিক) সুমন সাহা জানিয়েছেন যে, সমুদ্রে যাওয়ার জন্য মৎস্যজীবীদের কাছে সুরক্ষার জন্য লাইফ জ্যাকেট থাকা আবশ্যক। তাছাড়াও লাইসেন্সের কাগজপত্র ও জীবনবিমার নথিপত্র রাখতে হবে। মাছধরার জন্য ৯০ মিলিমিটারের কম পরিধির ফাঁসের জাল ব্যবহার করা যাবে না এবং ২৩ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের মাছ ধরা যাবে না।

আরও পড়ুনঃ মাত্র ২৫৫০ টাকায় কামাখ্যা দর্শন! দারুণ প্যাকেজ আনল IRCTC

বর্ষায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ট্রলার-লঞ্চগুলো, অনেকের জীবনহানীও হয়। তাই মৎস্য দপ্তর ও উপকূলরক্ষী বাহিনী দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রতিটি ট্রলার-লঞ্চে বিপদ সংকেত পাঠানোর জন্য জিপিআরএস ডিভাইস (GPRS Device) এবং অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখা বাধ্যতামূলক করেছে। গতবছর আশানুরূপভাবে ইলিশ জালে ওঠেনি। শৌলা ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক, ট্রলার মালিক সত্যেন্দ্রনাথ সামন্ত জানিয়েছেন যে, নানা সমস্যাকে সঙ্গী করেই অনেক আশা নিয়ে মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে পাড়ি দিচ্ছেন। এবার ইলিশ মৎস্যশিকারীদের হতাশ করবে না বলেই আশা।