অনন্যা সরকার, কোলাঘাট: কোলা ইউনিয়ন হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক (Assistant Teacher) মোজাম্মেল হোসেনের চাকরি জীবনের ‘বেনিফিট’ (Teachers Benefits) আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল পরিচালিত স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষক ডিএ (DA) দেওয়ার দাবিতে শিক্ষা ধর্মঘটকে (Teachers Protest) সমর্থন করেন। তাই মাথায় নেমে আসে ‘শাস্তির খাঁড়া’। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যেই ১৮ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার বেনিফিট পেলেন ওই শিক্ষক। তার সাথে স্কুলের আরও পাঁচ শিক্ষককেও দেওয়া হলো সার্ভিস বেনিফিট। সারা স্কুলে হল মিষ্টি বিতরণ, দেখা গেল খুশির পরিবেশ।
ডিএ আন্দোলন সমর্থন করায় ‘সুবিধা’ থেকে বঞ্চিত শিক্ষক
তৎকালীন মৎস্যমন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরীর ভাই সন্দীপ রায়চৌধুরী ২০১৪ সাল থেকে কোলা ইউনিয়ন হাইস্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে নিযুক্ত ছিলেন। ২০২৩-এ ওই স্কুলের সহকারি শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেনের চাকরিজীবনের আঠারো বছর পূর্ণ হয়। সেইমতো তার ‘এইট্টিন ইয়ার্স বেনিফিট’ পাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সন্দীপ রায়চৌধুরী ওই শিক্ষকের সার্ভিস বেনিফিটের রেজোলিউশনে সই করেননি। মোজাম্মেল হোসেন অভিযোগ জানান, তিনি ২০২৩ সালে ডিএ-এর দাবিতে শিক্ষক আন্দোলনের শামিল হয়েছিলেন, সেই কারণেই অন্যায়ভাবে তার সার্ভিস বেনিফিট আটকে দেওয়া হয়। এমনকি শিক্ষা পর্ষদে সন্দীপ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগও জানান। গত সরকারের আমলে একাধিকবার শিক্ষা পর্ষদে আবেদন জানান মোজাম্মেল হোসেন, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি।
আরও পড়ুনঃ টিকিট ওয়েট লিস্টে থাকলেও যাতায়াত করা যাবে ট্রেনে! বিরাট পদক্ষেপের পথে রেল
তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর সমস্ত স্কুলের পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি জেলার অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকরা (Sub-Inspector of Schools) স্কুল প্রশাসক পদে বসেছেন। আর তারপরেই নতুন সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মাথায় মোজাম্মেল হোসেন তার এইট্টিন ইয়ার্স বেনিফিট পেলেন। এছাড়াও সন্দীপ রায়চৌধুরী দীর্ঘদিন স্কুল পরিচালন সমিতির মিটিংয়ে না আসার কারণে আরও পাঁচ শিক্ষকের সার্ভিস বেনিফিট আটকে ছিল। এবার তারাও সেই সুবিধা পেয়েছেন। এই আনন্দে স্কুলে মিষ্টি বিতরণ করেন শিক্ষকেরা। মোজাম্মেল হোসেন ও বাকি শিক্ষকেরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে ‘বেনিফিট’ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।










