সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথে (Tarakeswar Bishnupur Rail Project) নতুন করে আশার আলো, আবারো শুরু হয়েছে কাজ। বিষ্ণুপুর থেকে তারকেশ্বর যাওয়া রেলরুটের দাবি দীর্ঘদিনের। কাজ শুরুও হয়েছিল অনেক আগে। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যায় বারবার থমকে দিয়েছে কাজ। কখনও বিক্ষোভ, বিরোধ কিংবা স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবিদাওয়া, কাজ শুরু হলেও শেষ কবে হবে তার সদুত্তর ছিল না। মূল সমস্যা গোঘাটের ভাবাদীঘি (Bhabadighi) এলাকাকে কেন্দ্র করে। কংক্রিটের পিলার তৈরি করা হলেও, রেললাইন পাতার বাকি কাজ আর এগোচ্ছিল না।
আরও এক ধাপ এগোল তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথের কাজ
আগে শোনা গিয়েছিল, দুর্গাপুজোর আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে লাইন পাতার কাজ। বাস্তবে সেটা হয়নি। তবে পুজো সম্পন্ন হওয়ার পর এসেছে বড় খবর, নতুন করে কাজে গতি ফিরেছে। শুরু হয়েছে গার্ডার বসানোর কাজ। বড় ক্রেনের মাধ্যমে পিলারের ওপর শুরু হয়েছে কাজ। তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথে পরিষেবা শুরু কবে হবে? তার দিনক্ষণ এখনও বলা সম্ভব হচ্ছে না। অতীতে একাধিকবার কাজে গতি এসেও থমকে গিয়েছিল প্রক্রিয়া। ভাবাদীঘির জটিলতা নতুন নয়, প্রায় এক দশকের।
পরিকল্পনামাফিক কাজ চললে এতদিনে এই পথে রেল পরিষেবা বহু আগে শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। বিভিন্ন সমস্যার কারণে হয়নি। সমস্যা কাটিয়ে কাজ এবার দ্রুত এগিয়ে যাক, এমনটাই চাইছেন অনেকে। এই পথে রেল পরিষেবা শুরু হলে, সরাসরি যুক্ত হবে রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর। দর্শনার্থী, তীর্থযাত্রীদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রী, পড়ুয়া ও ব্যবসায়ীদেরও তার লাভ হবে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ ছিল, ভাবাদীঘির জমি-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে প্রশাসন, রেল কর্তৃপক্ষ এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হয়েছিল, তার অধিকাংশই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত সকলেই এখনও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাননি এবং জমি ও জীবিকার সমস্যা পুরোপুরি মেটানো হয়নি। যদিও এখন সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ রকেট গতিতে এগোচ্ছে ভারতের অর্থনীতি, আগস্টে রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা কিনল RBI
উপকৃত হবেন বহু মানুষ
সড়কপথের পরিবর্তে সরাসরি ট্রেনে যাতায়াত করলে খরচ অনেকটাই কমবে। ইতিমধ্যে তারকেশ্বর থেকে গোঘাট যাওয়ার রেল পরিষেবা রয়েছে, বিষ্ণুপুর ও জয়রামবাটিও রেল পথের মাধ্যমে যুক্ত। বাকি শুধু মাঝের অংশের কাজটুকু। ভাবাদীঘি লাগোয়া এই অংশের কাজ শুরু সম্পন্ন হলেই, তারকেশ্বর ও বিষ্ণুপুর সরাসরি জুড়ে যাবে রেল পথের মাধ্যমে।










