উত্তমকুমারের মামারবাড়িতে পুলিশকে ঘরে আটকে নিগ্রহ, গ্রেপ্তার ৪

Published:

Bhowanipore

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশকে আটকে নিগ্রহ, একজন মহিলা সহ চারজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল ভবানীপুর থানার পুলিশ (Bhowanipore Police Station)। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার দুপুরে ভবানীপুর (Bhowanipore) এলাকায় উত্তম কুমারের মামার বাড়ি গিরিশ ভবনে ঘটেছে। পুলিশ কর্মীরা থানায় ফোন করে তাঁদের আটকে রাখার কথা জানালে অফিসাররা সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। এবং গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তদের। গতকাল শুক্রবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

ঠিক কী ঘটেছিল?

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রয়াত অভিনেতা উত্তমকুমারের মামারবাড়ি ভবানীপুর থানা এলাকার গিরিশ মুখার্জি ভবনে। অভিযোগ, কোনরকম সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই গত বৃহস্পতিবার, দুপুরে সেই বাড়িতে নির্মাণকাজ চলছিল। তা নিয়ে আপত্তি জানান ওই বাড়িতে বসবাসকারী, উত্তমকুমারের এক আত্মীয় বিষ্ণুপ্রিয়া চক্রবর্তী। শুধু তাই নয়, ফ্ল্যাট কেনার পর চুক্তি মতো টাকাও দেয়নি ক্রেতা আর সেই নিয়ে অভিযোগ জানালে ওই আত্মীয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন অভিযুক্তেরা। পরে থানায় অভিযোগ জানানো হলে তদন্তে গিয়েছিল ভবানীপুর থানার এক সাব-ইনস্পেক্টর-সহ দুই পুলিশকর্মী।

ফ্ল্যাটের চুক্তি নিয়ে শোরগোল

জানা গিয়েছে, ভবানীপুরের বাসিন্দা তথা উত্তম কুমারের মামার বাড়ির আত্মীয় বিষ্ণুপ্রিয়া চক্রবর্তী তাঁর ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজছিলেন। তখন দুবে পরিবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর নিয়মমাফিক চুক্তি হয় দু’পক্ষের। বলা হয়েছিল, ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রির সময় টাকার একটি অংশ দিতে হবে। বাকি টাকা দিতে হবে ফ্ল্যাটের দখল পাওয়ার পর। কিন্তু, ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পর ছ’মাস পেরিয়ে গেলেও চুক্তিমত টাকা পাননি বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী। টাকা চাইলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁর অনুমতি না নিয়েই ফ্ল্যাটে জানালা বসাতে শুরু করেন। এরপরই তিনি ভবানীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। আর সেখানেই বাধে গণ্ডগোল।

ঘরে তালাবন্দি করে রাখা হয় পুলিশকে

পুলিশ সূত্রে খবর, ওইদিন প্রথমে কলিং বেল বাজানো হলেও দীর্ঘক্ষণ গেট খোলা হয়নি। অনেকক্ষণ পর গেট খোলা হলে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা পুলিশ কর্মীদের কাছে জানতে চান, সার্চ ওয়ারেন্ট আছে কি না। এরপর পুলিশ কর্মীরা ভিতরে ঢুকলে ভিডিয়ো করতে শুরু করে ফ্ল্যাটের লোকজন। এরপর পুলিশ কর্মীদের একটি ঘরে আটকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন অভিযুক্তরা। শুধু তাই নয়, পুলিশ অফিসারের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি, মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এরপর আটকে পড়া পুলিশ কর্মীরা থানায় ফোন করে বিষয়টি জানালে পুলিশ বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে এসে তাঁদের উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ পাণ্ডুয়ায়, গ্রেফতার সেবায়েত সহ এক মহিলা

শেষ পর্যন্ত, কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশকে আটকে নিগ্রহ এবং অত্যাচার করায় ইতিমধ্যে ভবানীপুর থানা গ্রেফতার করেছে চার জনকে। ধৃতদের নাম লোকনাথ দুবে, বৈকুণ্ঠনাথ দুবে, সীতাকুমারী দুবে এবং বিনোদ রায়। ধৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশকে মারধর, আটকে রাখা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার তাঁদের আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।