প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবার যাচাইকরণ সঠিক রাখার জন্য নয়া উদ্যোগ নিল প্রশাসন। রূপশ্রী প্রকল্পের (Rupashree Scheme) তদন্ত সঠিক রাখতে জিও ট্যাগ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিল বিধাননগর পুরসভা (Bidhannagar Municipality)। অর্থাৎ তদন্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দপ্তরের কর্মীরা কখন কোথায় যাচ্ছেন তার সমস্ত লোকেশন পৌঁছে যাচ্ছে দপ্তরের কাছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে কোনো জনমুখী প্রকল্প (Government Scheme) বাতিল হবে না তাই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা রূপশ্রী প্রকল্পও সচল আছে। কিন্তু এবার সেই প্রকল্পের যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনা হল।
রূপশ্রী প্রকল্পে চালু হবে জিও ট্যাগিং
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, বিধাননগর পুরসভা রূপশ্রী প্রকল্পের জন্য তদন্তে কোনো ত্রুটি রাখতে চাইছে না। শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারীর সমস্ত কিছু করে যাচাই করা হবে। আর সেক্ষেত্রে জিও ট্যাগ চালু করা হচ্ছে। আবেদনকারীর বাড়ির অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, সময়, তারিখ সবই ছবির মধ্যে থাকবে। আসলে দপ্তরের কর্মীরা যে আবেদনকারীর বাড়িতে সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়েছেন এটি তার প্রমাণ। এবং এই সকল তথ্যগুলো ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পুরসভার দাবি, কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে আবেদনকারী কোনো ভুল তথ্য না দেয় এবং তদন্তকারীরা যাতে কোনো কারচুপি না করে।
তৃণমূলের আমলেই চালু হয়েছিল রূপশ্রী প্রকল্প
পূর্বতন সরকারের আমলে ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে গোটা রাজ্যেই চালু হয়েছিল রূপশ্রী প্রকল্প। যে সব পরিবারের বার্ষিক আয় দেড় লক্ষ টাকার কম, সেই গরিব পরিবারের তরুণীরাই একমাত্র বিয়ের অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু আবেদন করলেই পাওয়া যায় না টাকা, তার আগে প্রশাসনের তরফে তদন্ত করা হয়। সব ঠিক থাকলে অনুমোদন দেওয়া হয়। তারপর পাত্রীর ব্যাঙ্ক ভেরিকেশন করে তাঁর অ্যাকাউন্টে সরাসরি এককালীন ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রেই আবেদন করা যায়। এবং পাত্রী ও পাত্র দু’জনকেই সরকারি হিসেব অনুযায়ী বিবাহযোগ্য হতে হয়।
আরও পড়ুন: টানা বৃষ্টিতে উত্তর কলকাতায় ভেঙে পড়ল ২০০ বছরের পুরোনো বাড়ি, মৃত ১
নতুন সরকারের আমলে বদলে দেওয়া হয়েছে রুপশ্রী (Rupashree Scheme) ফর্মের ফরম্যাট। পুরনো ফর্মে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর দেওয়ার পরই তাঁর ব্যাংক ডিটেলস থাকত কিন্তু এখন নতুন ফর্মে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরের পরই ভোটার কার্ডের নম্বর দেওয়ার জায়গা করা হয়েছে। প্রথমেই আবেদনকারীর নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছে কি না তা লিখতে হচ্ছে। এপিক নম্বরের সঙ্গে সিরিয়াল নম্বর, পার্ট নম্বরও দিচ্ছে। যদি কোনো আবেদনকারীর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম না থাকে, তাহলে বিকল্প হিসাবে পরিবারের বাবা-মা বা ভাই-বোনের এপিক নম্বর দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে প্রকল্পের দুর্নীতি রুখতে সরকার উঠে পড়ে লেগেছে।










