আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: জব কার্ডকে কেন্দ্র করে আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সম্প্রতি জব কার্ডধারীদের প্রসঙ্গ তুলে আগের সরকারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প এতদিন একেবারেই ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। যার ফলস্বরূপ জব কার্ড থাকা সত্ত্বেও বহু খেটে খাওয়া মানুষ তাদের কাজ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সেপ্টেম্বরের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মনরেগা (MGNREGA) নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জব কার্ডধারীরাও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।
জব কার্ডের বৈধতা যাচাইয়ের উপর জোর
এর আগে মে মাসে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও জব কার্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের কথা সামনে আসে। সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁদের জব কার্ড কতটা বৈধ, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কাজ না করেও জব কার্ড তৈরি করে টাকা নেওয়ার অভিযোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থায় প্রকৃত শ্রমিক এবং বৈধ জব কার্ড শনাক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১০০ দিনের বদলে এবার ১২৫ দিনের কাজ
জুলাই থেকে বাংলায় নতুন ‘ভিবি-জি রাম-জি’ প্রকল্প চালু হয়েছে। এই ব্যবস্থায় বছরে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের মজুরি-ভিত্তিক কাজের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বাংলার প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জব কার্ডধারী এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন। প্রকল্পে কেন্দ্র ৬০ শতাংশ এবং রাজ্য ৪০ শতাংশ অর্থ দেবে বলেও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: “আগামীকালের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে…” কড়া হুঁশিয়ারি অভিজিতের
নতুন ব্যবস্থায় শুধুমাত্র জব কার্ডের ভিত্তিতেই কাজের সুযোগ মিলবে। অর্থাৎ কাজ পেতে গেলে জব কার্ড থাকাটাই মূল বিষয়। একই সঙ্গে পুরনো ব্যবস্থায় থাকা অনিয়ম বা ভুয়ো জব কার্ড যাচাই করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃত উপভোক্তারা যেন আর বঞ্চিত না হন, যাতে তাঁরা কাজের সুযোগ পান, সেটিই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘জব কার্ড হোল্ডাররা বছরে মাথাপিছু ৩৪, ৫০০ টাকা পাবেন।’ ফলে জব কার্ড থাকা গ্রামীণ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্পে কাজ পাওয়া এবং কার্ডের বৈধতা, দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।










