প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: টানা বৃষ্টির জেড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ঘটল উত্তর কলকাতায় (North Kolkata)। আজ, সাত সকালে জোড়াবাগান এলাকার ৩১ নম্বর ব্রজদুলাল স্ট্রিটে ২০০ বছরের পুরোনো তিনতলা বাড়ি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল (Old Building Collapsed)। ঘটনাস্থলেই এক মহিলার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ায় আপাতত বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
জানা গিয়েছে, আজ, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ সকলেই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন তখন ওই পুরোনো তিনতলা ভবনটির একটি অংশ আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। বিকট শব্দে পুরো পাড়া কেঁপে ওঠে। ভেঙে পড়া ইট-পাথরের স্তূপের নীচে আটকে পড়েন বহুতলের বাসিন্দারা। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জোড়াবাগান থানার পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ভেঙে পড়া ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে আটকে পড়া অন্তত ২০ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু বাড়ির একটা অংশের ইট ও পাথরের ভারী স্ল্যাবের নিচে চাপা পড়ে মারা যান উর্মিলা সাহু নামের এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা।
Kolkata house collapse:
30% of the building collapsed; situation is stable now and we have asked the administration to evacuate people from old buildings, says NDRF deputy commander Sanjay. pic.twitter.com/5yQhP3F7sT
— News Arena India (@NewsArenaIndia) August 18, 2026
ঘটনাস্থলে কুইক রেসপন্স টিম ও দমকল বাহিনী
নিম্নচাপের জেরে দু’দিন ধরে রাত থেকে দফায় দফায় দিনভর বৃষ্টি। স্থানীয়দের দাবি, রাত থেকেই বাড়ির কিছু কিছু অংশ ভেঙে পড়ছিল। কিছু বোঝার আগেই আজ সকালে ঘটে গেল এই ভয়ঙ্কর বিপদ। বর্তমানে আহতদের শারীরিক অবস্থাই স্থিতিশীল । আপাতত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে কলকাতা পুলিশের ডিএমজি, কুইক রেসপন্স টিম, দমকল বাহিনী এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একটি দল। ধ্বংস স্তুপে কেউ আটকে আছে কিনা সেই খোঁজ করতে প্রশিক্ষিত কুকুরদের আনা হয়েছে। বর্ষা এলেই পুর কর্তৃপক্ষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় শহরের এই ভগ্নজীর্ণ বহুতলগুলি। বৃষ্টিতে এই সকল বাড়ির ভীত নড়ে যায়। মাঝে মধ্যেই সেগুলি ভেঙে পড়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তারই পরিণতি হল এই জোড়াবাগান এলাকার ঘটনা।
আরও পড়ুন: এই কারণে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেলেন না ১০ লক্ষ মহিলা, আপনার একই ভুল হয়নি তো?
জানা গিয়েছে, কলকাতা কর্পোরেশনের তরফে এই বাড়িকে আগেই বিপজ্জনক বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু তবুও বাসিন্দারা কেউ ওঠেনি। এমনকি বাড়িটির মালিক ও ভাড়াটেদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি ও ভাড়াসংক্রান্ত বিরোধের কারণে স্থায়ী সংস্কার সম্ভব হয়নি। আর তাতেই ঘটে গেল এই ভয়ঙ্কর বিপদ। ইতিমধ্যেই বাড়ির বাকি অংশ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। ঠিক হয়েছে, উদ্ধার কাজ শেষে ভেঙে পড়া চাঙড়-সহ আবর্জনা সরানোর কাজ করবে কর্পোরেশন।










