হাতে মাত্র ৭ দিন সময়! সরকারি সাহায্যহীন মাদ্রাসাগুলিকে আল্টিমেটাম বিকাশ ভবনের

Published:

Bikash Bhawan

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্ষমতার পালাবদল হতেই এবার প্রশাসনের নজরে এল সরকারি সাহায্যহীন মাদ্রাসা স্কুলগুলি (Unaided Madrasah)। আগামী ৭ দিনের মধ্যে পড়ুয়াদের তথ্য সামগ্রী পাঠানোর সময়সীমা বেঁধে দিল বিকাশ ভবন (Bikash Bhawan)। রাজ্যের প্রতিটি এলাকার কোনও সরকারি সাহায্যহীন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানই এই সমীক্ষার বাইরে থাকবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং প্রতিটি জেলাশাসকদের তাঁদের নিজ নিজ এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় কর্মরত মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ ও সংকলন করতে হবে বলেও কড়া নির্দেশ এসেছে।

কেন এই কড়া পদক্ষেপ?

জানা গিয়েছে প্রশাসনিক স্তরে মূলত মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকার পর্ষদে তথ্য আপলোড না করা এবং বহু মাদ্রাসার ইউডাইস কোড না থাকার কারণে রাজ্যস্তরের ডেটাবেস তৈরি করতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পড়ুয়াদের ভর্তির যাবতীয় তথ্য আগামী ৭ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য এক জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকার। অন্যদিকে বিকাশ ভবনের তরফে দাবি করা হচ্ছে যে, রাজ্যের সিংহভাগ সাহায্যহীন মাদ্রাসা সরকারি ‘বাংলার শিক্ষা পোর্টালে’ পড়ুয়াদের বর্তমান ভর্তির তথ্য নথিভুক্ত করেনি। অর্থাৎ মাদ্রাসাগুলির ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যার কোনও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই। তাই এই জরুরি পদক্ষেপ।

কোন কোন জেলার ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকা?

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকারের এই জরুরি নির্দেশিকায় রাজ্যের আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া, বীরভূম, কোচবিহার, হুগলি, হাওড়া, জলপাইগুড়ি, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর দিনাজপুর এই ১৭টি জেলার জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিকদের এই বিষয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য আপলোডের কাজের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাদ্রাসাগুলির টিচার ইন চার্জ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

আরও পড়ুন: বাংলার স্কুলে মিড ডে মিলে এলাহি আয়োজন, পাতে পড়ছে আম থেকে দুধ

জেলা আধিকারিকদের মাধ্যমে পাঠানো নির্দেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট ফরম্যাটে সমস্ত তথ্য পূরণ করে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার টিচার ইন চার্জকে সশরীরে স্বাক্ষর করতে হবে। এবং তথ্যের নির্ভুলতা যাচাইয়ের জন্য প্রতিটি মাদ্রাসার স্বাক্ষরিত রিপোর্টের একটি PDF কপির পাশাপাশি MS Excel এর একটি সফট কপিও বিকাশ ভবনের দফতরে পাঠাতে হবে। আর এই গোটা প্রক্রিয়াটি পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার পালা কত তাড়াতাড়ি এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।