বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিধায়কদের সই জাল কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দোষী, এখনই এমনটা মনে করছে না কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সেই সূত্রেই, এই মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়িয়ে দিল উচ্চ আদালত। CID তাদের রিপোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দোষী বলে উল্লেখ করলেও সেই রিপোর্টে সন্তুষ্ট নয় হাইকোর্ট। আদালতের বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাস জানিয়ে দিল, এই মামলায় অভিষেকের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ছে নভেম্বর মাস পর্যন্ত।
অভিষেকই দোষী মানছে না কলকাতা হাইকোর্ট?
বিধানসভা নির্বাচনের পর পরই অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বৈঠকে উপস্থিত না থেকেও কয়েকজন বিধায়কের সই করিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের রেজোলিউশনে করা হয়েছিল সেই সই। তবে অভিযোগ, জাল সই সম্বলিত রেজোলিউশন পাঠানো হয়েছে বিধানসভায়। আর তারপরেই অভিযোগের তীর ঘোরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। কারণ ওই পত্রে সই ছিল তৃণমূল সাংসদেরও।
সোমবার, তৃণমূলের সই মামলায় বিচারপতি কৌশিক চন্দর বেঞ্চ শুনানি শুরু করে জানায়, CID যা রিপোর্ট পেশ করেছে তাতে সন্তুষ্ট নয় কলকাতা হাইকোর্ট! আদালতের পর্যবেক্ষণ, “বৈঠকে অংশ নেওয়া মানেই সই জাল করিয়েছেন এমনটা বলা যায় না।” এদিন রাজ্যের তরফে আদালতকে জানানো হয় সই জাল যে হয়েছে, তার সত্যতা মিলেছে ফরেনসিক রিপোর্ট। এদিকে CID এর তরফেও একাধিক যুক্তি খাড়া হয় আদালতে। তবে বিচারপতি একেবারে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জালিয়াতিতে যুক্ত, প্রাথমিকভাবে এমনটা মনে করছে না আদালত।”
আরও পড়ুন: “২০ জন বিজেপি বিধায়ককে বের করে দিলে যায় আসবে না” তোলাবাজি নিয়ে হুঁশিয়ারি শমীকের
বলাই বাহুল্য, এদিন সই জাল কাণ্ডে নিজেদের যুক্তির স্বপক্ষে প্রমাণ দেখায় CID। তবে আদালতের তরফে জানানো হয়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে একসাথে থাকতে বলেছেন। এর বাইরে কোনও বয়ান নেই। তাহলে সই জল কীভাবে হল? কে বানিয়েছে সেই ডকুমেন্টস?”এ কথা বলেই CID কে একেবারে সরাসরি বিচারপতি জানান, “কেউ হাত বেঁধে রাখেনি। তদন্ত করুন।” জানা যাচ্ছে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী নভেম্বর মাসে।










