প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শিক্ষা প্রাঙ্গণে দেখা গেল অন্য চিত্র, হাবড়ায় (Habra) স্কুল চলাকালীন নাকি মুসলিম পড়ুয়াদের নামাজ পড়ার জন্য আলাদা কক্ষ এবং নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসা মাত্রই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে স্কুল চত্বরে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার (Habra school azan controversy) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সেখানকার হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা। শীঘ্রই বিদ্যালয়ে এই ব্যবস্থা বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।
স্কুলের মধ্যে মাইকে বাজছে আজান!
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গত শুক্রবার, হাবড়ার ‘নবপল্লী বিদ্যাবীথি হাই স্কুল’-এ ক্লাস চলাকালীন মুসলিম শিক্ষার্থীদের নামাজ পড়ার জন্য একটি কক্ষ বরাদ্দ করা হয়। শুধু তাই নয় ওইদিন নামাজ পড়ার জন্য তাদের বাড়তি সময়ও দেওয়া হয়। টিফিনের আধ ঘণ্টা আগেই মুসলিম শিক্ষার্থীদের বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও স্কুল চলাকালীন মাইকে আজানের আওয়াজও শোনা যাচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি স্কুলের মধ্যে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরে থাকতেও দেখা যায়। আর এই নিয়ে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
News coming in from North 24 Parganas district of #WestBengal.
Muslim students are given special time and a room to offer Namaz inside school during school hours.
Even, on Friday, Muslim students are given extra time to offer Namaz.
Against this, members of the Hindu… pic.twitter.com/MSusR3v5ww
— Hindu Voice (@HinduVoice_in) October 4, 2026
কী বলছেন প্রধান শিক্ষক?
স্কুল চত্বরে এইভাবে আজান চলা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা। সেখানে প্রধান শিক্ষক জানান, “টিফিন টাইমে মুসলিম ছাত্ররা আজানের জন্য বেরিয়ে যেত, এই নিয়ে নানারকম মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় শেষে আগের প্রধান শিক্ষকের আমলে একটি ডেপুটেশন পাশ করানো হয়। তারপর থেকে এই নিয়ম হয়ে আসছে। তবে এই নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা করা হবে। এবং খুব শীঘ্রই এই ব্যবস্থা বন্ধ করা হবে।” অভিযোগকারী সংগঠনের সদস্যদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় আচারের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হলে অন্যান্য পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেও সমতার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: “চারদিকে অনেক ছারপোকা বেরিয়েছে..একদম হালকাভাবে নেবেন না” CJP-কে নিশানা করে কড়া বার্তা শুভেন্দুর
হাবড়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতে বাকি স্কুলের মত স্কুলের টিফিন টাইম ১:৩০ মিনিটেই হয় সেই দাবি আপাতত তোলা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা, পড়ুয়াদের অধিকার এবং সকলের জন্য সমান নিয়ম এই তিনটি বিষয়কে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে এখনই কোনও প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি স্কুল কর্তৃপক্ষ।










