প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চলতি বছর প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবেই মিটেছে পশ্চিমবঙ্গে। এবার পালা ফলাফল ঘোষণার। এদিকে রাজ্যে ভোটগণনা কেন্দ্রের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জানানো হয়েছে, ২৯৪টি আসনের জন্য ৭৭টি কেন্দ্রে ভোট গণনা হবে। কোন জেলায় কোথায় কোথায় গণনা চলবে বিস্তারিতভাবে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন (Election Commission Of India)। তবে এবার ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিযুক্ত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা দায়ের করেছিল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।
ভোট গণনায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী নিয়ে ক্ষোভ
গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবারই হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ভোট গণনাকেন্দ্রে সুপারভাইজার হিসাবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করছে কমিশন। গণনা নির্দেশিকা অনুযায়ী কাউন্টিং সুপারভাইজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ও মাইক্রো অবজারভাররা তো আগেই নিযুক্ত থাকেন। তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পূর্বে যুক্ত না থাকা কেন্দ্রীয় সরকারি বা পিএসইউ কর্মীদের এই কাজে নিয়োগের কারণ কী? এছাড়াও তিনি বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন তোলেন, কেন এই নির্দেশিকা কেবল পশ্চিমবঙ্গের জন্য জারি করা হয়েছে। কিন্তু এবার সেই মামলা খারিজ করল হাইকোর্ট।
আবেদনের মামলা খারিজ হাইকোর্টের
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও গণনাকেন্দ্রে সুপারভাইজার হিসাবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ প্রসঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, “কমিশনের সিদ্ধান্তে বেআইনি কিছু নেই। কেন্দ্রীয় কর্মীদের গণনার কাজে নিয়োগের সিদ্ধান্ত বৈধ। এখানে মামলাকারীর অভিযোগ প্রমাণহীন।” এছাড়াও আদালতের তরফে জানানো হয়, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১০০ ধারার অধীনে প্রণীত কোনও আদেশ অমান্য করা হয়, তাহলে সেটি নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করার কারণ হবে। যদি আবেদনকারী দেখতে পান যে গণনা চলাকালীন, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীরা বিজেপির প্রার্থীকে সুবিধা দিয়েছে অথবা এমন কিছু করেছে যার কারণে আবেদনকারীর প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন, তাহলে একটি নির্বাচনী পিটিশনের মাধ্যমে এটিকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে।
আরও পড়ুন: ভারতের নাগরিকত্ব নীতি ও পাসপোর্টের নিয়মে বড় বদল
প্রসঙ্গত, গতকাল, বৃহস্পতিবার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণনা কর্মী নিয়ে মামলা করার পাশাপাশি কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে আরও একটি মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ ছিল গণনাকেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন নিয়ে। এদিকে ইভিএম, স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর ন্যূনতম ২৪ জন জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে সেই সংখ্যাটা বাড়তে পারে।










