প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রেকর্ড হারে ভোটদান প্রক্রিয়ার মাঝেই শেষ হল ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) প্রক্রিয়ার। প্রতিটি নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন যে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে এক বৃদ্ধ ভোটারের মৃত্যুকে (Udaynarayanpur Voter Death Case) কেন্দ্র করে সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এবার সেই অভিযোগকে ভুল তথ্য বলে জানিয়ে দিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশন।
উদয়নারায়ণপুরে বৃদ্ধ ভোটারের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য
কিছুদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দেখিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন যে, হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুরে এক বয়স্ক ব্যক্তি ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় তিনি একা হাঁটতে পারছিলেন না, তাই তাঁর ছেলে তাঁকে বুথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই সময় নাকি দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে ধাক্কা দেয় এবং মারধর করে বলে অভিযোগ। তখনই নাকি ওই বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁকে আমতা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। তুমুল ভাইরাল হয় সেই পোস্ট, রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। আর সেই ঘটনায় এবার প্রকৃত সত্য প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।
অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি কমিশনের
রিপোর্ট মোতাবেক, আজ শুক্রবার, সিইও পশ্চিমবঙ্গ উদয়নারায়ণপুরে বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে। আর সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘ভুয়ো’ বলে দাবি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “মৃত ৮২ বছর বয়সী পূর্ণচন্দ্র দলুই গত ২৯ এপ্রিল তাঁর ছেলের সাথে উদয়নারায়ণপুরের ২৪৫ নম্বর বুথে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। ওই বৃদ্ধ অসুস্থতা সত্ত্বেও নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে এসেছিলেন। কিন্তু ভোট দেওয়ার পর বুথ থেকে বেরোনোর সময় সামনেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও প্রবল গরমে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে ওই বৃদ্ধকে আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।”
আরও পড়ুন: তৃণমূলকে সমর্থনের ইঙ্গিত, তৃতীয়বার মমতার সরকার হবে বলে মত কংগ্রেস পর্যবেক্ষকের
কমিশন বিবৃতিতে স্পষ্ট জানায় যে, “জেনারেল অবজার্ভারের রিপোর্ট অনুযায়ী, উদয়নারায়ণপুরের ২৪৫ নম্বর বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাথে কোনও ধস্তাধস্তি বা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেনি। অর্থাৎ একটি স্বাভাবিক মৃত্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর পেশাদারিত্বকে সম্মান জানিয়ে কমিশন এই ধরণের ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছে সকলকে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিষেক আগেই অভিযোগ করেছিল যে, অমিত শাহের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির ব্যক্তিগত সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়েছে, এমনকি বাংলার মানুষের ওপর লেলিয়ে দেওয়া একদল লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুণ্ডা হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। তবে এবার এই ঘটনার উত্তেজনা প্রশমন করতে ময়দানে নামে নির্বাচন কমিশন।










