সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বাড়ি ভাড়া ভাতা (Home Rent Allowance) নিয়ে এবার বড় রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট। স্বামী-স্ত্রী একইসঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলে দুজনেই পাবেন বাড়ি ভাড়া ভাতা। তবে সেক্ষেত্রে মানতে হবে শর্ত। কর্মস্থলের দূরত্বের কারণে যদি স্বামী বা স্ত্রীর একইসঙ্গে থাকা সম্ভব না হয়, তাহলেই এই বাড়ি ভাড়া ভাতায় একমাত্র কাটছাঁট করা যাবে না। এমনকি বেআইনিভাবে ফেরত নেওয়া টাকা বার্ষিক ৬ শতাংশ সুদসহ ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফ থেকে।
বাড়ি ভাড়া ভাতা নিয়ে বড় রায় কলকাতা হাইকোর্টের
সম্প্রতি দুটি মামলায় কড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরের এক শিক্ষিকার বাড়ি ভাড়া ভাতার সর্বোচ্চ সীমা সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের যুক্তি খারিজ করে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, স্কুল শিক্ষা দপ্তরের ২০১১ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রীর কর্মক্ষেত্রের দূরত্ব যদি নিত্য যাতায়াতের যোগ্য না হয়, তাহলে উভয়ই বাড়ি ভাড়া ভাতা পাওয়ার যোগ্য। এমনকি জোর করে ট্রেজারিতে টাকা জমা করানোর নির্দেশ খারিজ করে জেলার ডিআইকে পুরো ভাতা বার্ষিক ৬ শতাংশ সুদসহ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসলে ওই শিক্ষিকার স্বামী শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে তিনি সোনারপুরের এক স্কুলের শিক্ষিকা। তাঁদের কর্মস্থলের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার হওয়ায় প্রতিদিন যাতায়াত করা সেখানে অসম্ভব। তবে দুজনেই ভাতা পাওয়ার অভিযোগে প্রশাসন সোনারপুরের শিক্ষিকার থেকে জোর করে টাকা নিয়ে ট্রেজারিতে জমা করে। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
আরও পড়ুন: বকেয়া DA-র রিপোর্টে উল্লেখ নেই গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের, উদ্বেগে পেনশনভোগীরাও
এদিকে আরও এক মামলায় বীরভূমের এক শিক্ষিকাকে বাড়ি ভাড়া ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের উচ্চ আদালত। সেক্ষেত্রে ওই শিক্ষিকার স্বামীর থেকে তাঁর কর্মক্ষেত্রের দূরত্ব আনুমানিক ৯০ কিলোমিটারের বেশি। আদালত জানিয়েছে, ২০১১ সালের মেমো মেনে স্কুল শিক্ষা কমিশনারকে অন্তত ৮ সপ্তাহের মধ্যেই সম্পূর্ণ ভাতা প্রদান করতে হবে এবং ৬% সুদসহ বকেয়া ফেরত দিতে হবে।










