বকেয়া DA-র রিপোর্টে উল্লেখ নেই গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের, উদ্বেগে পেনশনভোগীরাও

Published:

Grant in Aid

সহেলি মিত্র, কলকাতা: পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) সংক্রান্ত মামলা আগামী ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চে মামলাটি উঠতে চলেছে। তবে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant in Aid) প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া ডিএ পাওয়া নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী ও পেনশনভোগীদের প্রাপ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রের নেতৃত্বাধীন কমিটির সাম্প্রতিক রিপোর্টে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ-র বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। সরকারি অনুদানে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের প্রাপ্য নিয়ে তাই উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির দাবি, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে চলা আইনি প্রক্রিয়ার সুবিধা তাঁরা পাবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিভিন্ন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মীর সংখ্যা প্রায় আট লক্ষ বলে একটি সরকারি সূত্রের দাবি। তাঁদের বেতন ও পেনশন প্রদানের পদ্ধতি সরকারি দফতরের কর্মীদের থেকে আলাদা হওয়ায় বকেয়া ডিএ-র প্রশ্নে তাঁদের অবস্থানও অনিশ্চিত। সংশ্লিষ্ট কর্মী ও সংগঠনগুলির একাংশের আশঙ্কা, মামলায় তাঁদের বিষয়টি সরাসরি বিবেচিত না হলে প্রাপ্য আদায়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

কী বলছেন সরকারি কর্মীরা?

গত ১৬ অক্টোবর মামলাটির সংক্ষিপ্ত শুনানি হয়েছিল। ইন্দু মলহোত্র কমিটির কাছে নিজেদের বক্তব্য পেশের সুযোগ চেয়ে একটি সরকারি কর্মচারী সংগঠন আবেদন করেছিল। তবে সে দিন বকেয়া ডিএ-র মূল বিষয় নিয়ে শুনানি হয়নি। আগামী ডিসেম্বরে কমিটির সঙ্গে মামলার বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাবিত বৈঠকে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী ও পেনশনভোগীদের বিষয়টি তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে। আপাতত ২৭ অক্টোবরের শুনানি, প্রস্তাবিত বৈঠক এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তরা।

আরও পড়ুনঃ “আরশোলা”দের রুখতে মুখ্যমন্ত্রীর নতুন পরিকল্পনা, এবার ছোট থেকেই শুরু হবে রাষ্ট্রবাদের পাঠ

এই বিষয়ে বড় তথ্য দিয়েছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্পষ্ট বলা আছে, রোপা ২০০৯-এর আওতাভুক্ত সরকারের সমস্ত কর্মচারী বকেয়া ডিএ পাবেন। এমনকি, রাজ্য সরকারও ১৩ মার্চ নির্দেশ দিয়ে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী-সহ গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তা হলে বিভাজন কেন? মলহোত্রা কমিটির দোহাই দেওয়া হচ্ছে কেন?” তাঁর আরও দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রী যেন ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত এক কিস্তি বকেয়া ডিএ মেটানোর ব্যবস্থা করেন। তা না হলে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও গ্রান্ট ইন এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষোভ সামলানো কঠিন হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

google button