প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাত পোহালেই আগামীকাল, ২৩ এপ্রিল সমগ্র রাজ্যের মোট ১৫২টি কেন্দ্রে প্রথম দফা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) হতে চলেছে। তাই এইমুহুর্তে রাজনৈতিক হাওয়া বেশ থমথমে। এমতাবস্থায় আজ হাইকোর্টে (Calcutta High Court) ৮০০ জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতারি মামলায় কমিশনকে কড়া নির্দেশ দিলেন বিচারপতি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সতর্কতামূলক ভাবে কাউকে আটক করতে গেলেও তা আইনের নির্দিষ্ট বিধি মেনেই করতে হবে। কিন্তু যদি কমিশন (Election Commission Of India) ঢালাও গ্রেফতারির সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে।
তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতারির মামলা আদালতে
রিপোর্ট মোতাবেক, গত সোমবার, তৃণমূলের প্রায় ৮০০ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তাই সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার হাই কোর্টে মামলা করেছিল তৃণমূল। পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী আজ, বুধবার মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এজলাসে। এদিন তৃণমূলের হয়ে কোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “কমিশন যাদের ‘ট্রাবল মেকার’ বলছে, তাদের সবাই তৃণমূল কংগ্রেসের। কীসের ভিত্তিতে ট্রাবল মেকার বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। একজন ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে পারেন। কমিশন কি স্বাধীনতা কাড়তে পারে মানুষের?”
কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ কল্যাণের
মামলার শুনানি ঘিরে বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এজলাসে রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত মামলাকারী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, “আইনে ‘ট্রাবল মেকার’ বলে কোনও শব্দই নেই। কোনও দণ্ডবিধিতে কি ব্যবহৃত হয়েছে এই শব্দ? কমিশন নিজের ইচ্ছেমতো কাউকে এভাবে দাগিয়ে দিতে পারে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রাজ্যের। কমিশন কোন ক্ষমতাবলে এই নির্দেশিকা জারি করল, তা তাদের ব্যাখ্যা করতে হবে।” এছাড়াও তাঁর অভিযোগ, ”যদি প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন বা অ্যারেস্ট করতে হয়, তার জন্য নির্দিষ্ট আইন থাকতে হবে। তা ছাড়া হবে না। ”
পাল্টা দাবি কমিশনের আইনজীবীর
হাইকোর্টে বিচারপতি পার্থসারথি সেনের এজলাসে চলল দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের মাঝে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, পুলিশ কি এই তালিকার ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করেছে? জবাবে রাজ্য জানিয়েছিল যে, এখনও পর্যন্ত তেমন কিছু করা হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে কমিশনের আইনজীবী ডি.এস. নাইডু দাবি করেন, কমিশন কাউকে ঢালাও গ্রেফতার করতে বলেনি। বরং আইন মেনে শান্তিপূর্ণ ভোট করার কথা বলেছে। তাঁর দাবি, “গণতন্ত্র সুরক্ষিত করতে আমাদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করতে হয়। তাই এইমুহুর্তে যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে তা গুরুতর। তাই আমরা সে সব প্রশ্নের জবাব দিতে চাই।”
গ্রেফতারি প্রসঙ্গে রায় প্রদান হাইকোর্টের
কমিশনের আইনজীবী এদিন হাইকোর্টে স্পষ্ট জানায় যে বিহারে ভোটের সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তা যাচাই করে দেখে নেওয়া হোক। কারণ সেখানেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কোনও রাজ্যকে আলাদাভাবে ট্রিট করা হয়নি, যে প্রথা রয়েছে, তা মেনেই কাজ করা হচ্ছে। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল শোনার পর আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, “সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। অন্য আইন থাকলে সেটার অধীনেই কাজ করতে হবে। যদি আইন কোনও কাজ নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে করতে বলে, তবে সেটাই মানতে হবে।”
আরও পড়ুন: ‘মিথ্যা কাঁদুনি গাইছেন’ ৪% DA মামলায় বড় তথ্য ফাঁস করলেন রাজ্য সরকারের কর্মী
গ্রেফতারি প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চের মন্তব্য, “ কমিশন যদি শুধুমাত্র ‘ট্রাবল মেকার’ বলে চিহ্নিত করে ঢালাও গ্রেফতারি সংক্রান্ত নির্দেশ দেয় তাহলে সেটি প্রাথমিক ভাবে ভুল। নাগরিকের স্বাধীনতা শুধুমাত্র আইন অনুযায়ীই সীমিত করা যায়। কেউ যদি অপরাধ করে, পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। সতর্কতামূলক ভাবে কাউকে আটক করতে হলেও নির্দিষ্ট বিধি মেনেই করতে হবে। তাই এ ক্ষেত্রে কমিশন যদি এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে, তার উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হল।”










