সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ডায়মন্ড হারবারে তাঁর সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন থানায় দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। তবে এবার ওই শিবিরের দুটি কাঠামো ভাঙতে চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক মহিলা। তাঁর অভিযোগ, ফলতায় খেলার মাঠ দখল করেই বেআইনিভাবে ওই সেবাশ্রয় শিবির নির্মাণ করা হয়েছিল। উচ্চ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে।
অভিষেকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফলতার মহিলা
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা হচ্ছে এফআইআর। সব মিলিয়ে তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে এফআইআর-র সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮, যার মধ্যে সিংহভাগ মামলায় ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেয়েছেন তিনি। চাকরি দুর্নীতি থেকে শুরু করে, ত্রাণ দুর্নীতি, সেবাশ্রয় শিবিরে ভুয়ো চিকিৎসা এবং কোটি কোটি টাকার ওষুধ দুর্নীতি সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন্ড কমান্ডের বিরুদ্ধে।
এদিকে এবার অভিষেকের সেবাশ্রয় কাঠামো ভাঙার আবেদন জানিয়েই হাইকোর্টে মামলা করেছেন আমিনুদ্দিন খান নামের ওই মহিলা। তিনি জানিয়েছেন, ফলতা বিডিও অফিসের পাশে খেলার মাঠ দখল করে সেবাশ্রয় শিবির নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই শিবিরের কার্যক্রম বন্ধ। কিন্তু তা সত্ত্বেও এখনও বেআইনিভাবে নির্মাণগুলি সেখানে পড়ে রয়েছে। ওগুলি অবিলম্বে ভাঙা হোক। কারণ সেবাশ্রয়ের ওই নির্মাণগুলির জেরে বর্তমানে সাধারণ মানুষের সমস্যা হচ্ছে। এমনকি স্কুলের মাঠে খেলাধুলা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: “এরা এতটাও সাধু নয় যে…” অভিজিৎদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সোনম ওয়াংচুক
আদালত সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে। তবে উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনের পর অভিষেক তাঁর নিজের কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দাদের জন্য স্বল্প খরচে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য চালু করেছিলেন সেবাশ্রয় শিবির। এমনকি এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকটি অবৈধ নির্মাণ করেছিলেন তিনি, যার মধ্যে ফলতা এলাকায় সবথেকে বেশি। যেখানে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় করে ওই শিবির তৈরি করা হয়েছিল। তবে এবার সেই নির্মাণের একাংশ ভেঙে ফেলার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ ফলতার বাসিন্দা।










